নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ কুমারকাণ্ডে মোদি-শাহকে একযোগে বিঁধলেন রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। পরাজয়ের হতাশা থেকেই রাহুল গান্ধীর এমন বক্তব্য। পাল্টা দাবি করল বিজেপি।
কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন,’যা হয়েছে, তার জন্য় প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহ, এই ২ জনকেও তদন্তের আওতায় আনা হোক। কোনও সন্দেহ নেই, প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহ এই ষড়যন্ত্রের মাথায় ছিলেন।’বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, ‘আমার মনে হয় পরাজয় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর আকণ্ঠ ঈর্ষা থেকে এই সব বলছেন।’ SIR-পর্বের সময় থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার-তালিকায় কারচুপির অভিযোগে সরব হয়েছিল বিরোধীরা।এই আবহে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’ বুধবারের প্রতিবেদন সারা দেশে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। এই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে বৃহস্পতিবার ফের ময়দানে নামলেন রাহুল গান্ধী। শুধু মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নন, তিনি সরাসরি নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।
কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, যা হয়েছে, তার জন্য় প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহ, এই ২ জনকেও তদন্তের আওতায় আনা হোক। কোনও সন্দেহ নেই, প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহ এই ষড়যন্ত্রের মাথায় ছিলেন। তাঁরা এই দেশের জন্য় যেটা করেছেন, তার জন্য় তাঁদের তদন্তের আওতায় আনা উচিত। কোনও ব্য়ক্তি যদি নির্বাচনের ওপর আঘাত হানে, সে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে নষ্ট করছে। দেশদ্রোহী, তাদের অন্য় কোনও নামে ডাকা যায় না। এটাই শব্দ। বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন,’আমারও মনে পড়ে গেছে, ভারতের এক মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার গোপাল স্বামীজি, এক নির্বাচন কমিশনার নবীন চাওয়ালাকে বরখাস্ত করার জন্য় রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। ১২ পয়েন্টর অভিযোগ ছিল। বলা হয়েছিল, তিনি কংগ্রেস পার্টির হয়ে কাজ করতেন। তাঁর নিরপেক্ষতা সন্দেহের মধ্য়ে পড়ে। তারপরে উনি মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার হন।’
এদিন রাহুল গান্ধী যেখানে সাংবাদিক বৈঠক করেন, তার ব্য়াকগ্রাউন্ডে ভিডিও ওয়ালে লেখা ছিল – দেশদ্রোহীদের শাস্তি হবে। তারপর লেখা ছিল – কনস্পিরেটর অর্থাৎ ষড়যন্ত্রকারী। তার নীচে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি,কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ ৭ জনের ছবি ছিল। সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্য়ের একাধিক ভিডিও দেখান রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, এই ভিডিওটা একটু মন দিয়ে শুনবেন, আমি এই ভিডিওর টোনটা আপনাদের দেখাতে চাই। ভাল করে শুনুন কী বলতে চাইছে।’ এরপর ওই ভিডিওতে দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘৩০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার থাকবে।’কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘কেন আমি এই ভিডিও দেখাচ্ছি, কারণ আমি একটা পলিটিকাল পরিবার থেকে এসেছি। আমি ৫০ বছরের বেশি একটা রাজনৈতিক পরিবারে আছি। কোনও রাজনৈতিক নেতা, যারা গণতান্ত্রিক পরিবশ তৈরি করেন, কখনওই এইভাবে বলবেন না।’
রাহুল গান্ধীর পাল্টা বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদীও সাংবাদিক বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার টি এন সেসনের একটি ভিডিও দেখান। সেখানে লেখা ছিল – রাজীব গান্ধী মুখ্য় নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনের দিন ঠিক করে দিতেন: ফাঁস করলেন প্রাক্তন মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার। প্রাক্তন মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার টি এন সেসন বলেন, ‘আমি ক্য়াবিনেট সচিব ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেন, ‘সেসন, মুখ্য় নির্বাচন কমিশনারকে বলো, আমরা এই এই দিনে নির্বাচন চাই।’ আমি তাঁকে বললাম, ‘এটা নির্বাচন কমিশনকে বলা আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাজ শুধু এটা বলা, যে আমরা নির্বাচনের জন্য় তৈরি। দিনক্ষণ ঠিক করার কাজ পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের।’
চরম সমালোচনার মুখে বুধবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে দীর্ঘ প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, যে কোনও প্রতিষ্ঠানে কোনও আলোচনার সময় বিভিন্ন মতামত ও পর্যবেক্ষণ সামনে আসা স্বাভাবিক বিষয়। এগুলি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ। তিনজন কমিশনারের মধ্যে শুধু একজনের মতামতই নয়, প্রতিটি কমিশনারের মতামতই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নতির জন্য যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
Municipal Corporation Election | পুজোর ছুটি শেষেই ৭ পুরসভায় ভোট, কবে হবে বিজ্ঞপ্তি?
