
তৈমারা ভ্যালি, ঝাড়খণ্ড জেলায় অবস্থিত এই জায়গাটি রাঁচি-জামশেদপুর হাইওয়ের ওপর যাতায়াতের পথেই পড়ে। রাঁচি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জায়গাটি প্রায় ৩ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। তবে এই ছোট্ট অঞ্চল মোড়া গভীর রহস্যে, যার খবর আঞ্চলিক মানুষ ছাড়া খুব কম জনই জানেন।

রহস্যে মোড়া এই তৈমারা ভ্যালি নিয়ে রয়েছে আঞ্চলিক বিভিন্ন গল্প। যাতায়াতের পথে, আঞ্চলিক মানুষদের থেকে এই অঞ্চল নিয়ে বিভিন্ন রহস্যময় গল্প শোনা যায়। এই অঞ্চলের রহস্য নিয়ে একাধিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা হলেও, এই অঞ্চলে কেন এমন অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে, তার একেবারে সঠিক ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।

আঞ্চলিক মানুষদের কাছ থেকেই শোনা যায়, এই ভ্যালি দিয়ে যাতায়াতের সময় কাজ করে না কোনও মোবাইলের টাওয়ারই। সমস্ত কানেকশনের মোবাইলের টাওয়ারই কাজ করা বন্ধ করে দেয় এই এলাকায়।

এখানেই শেষ নয়, এই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করার সময় নাকি বদলে যায় মোবাইলের সময়, দিন, এমনকি সালও! অনেকেরই এই অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, এই জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময় নাকি বদলে যায় মোবাইলের সময় ও সাল। বর্তমান সময়ের থেকে নাকি বছর দুয়েক এগিয়ে যায় মোবাইলের সাল, বদলে যায় সময়ও! (ছবি- AI)

এখানেই শেষ নয়, অনেক সময় রাতে এই এলাকার স্ট্রিট লাইটগুলি দপদপ করে, একেবারে জ্বলতে চায় না কিছুতেই। অথচ সকালে আলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাতে আদৌ কোনও সমস্যাই নেই। তাহলে কেন রাতে মাঝে মাঝে এভাবে আলোগুলি দপদপ করে, তার কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

তৈমারা ভ্যালি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে, অনেক বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এখানে ভীষণ শক্তিশালী একটি ম্যাগনেটিক ফিল্ড রয়েছে। সেই কারণেই ইলেকট্রনিক ডিভাইজগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করে। তবে এই ঘটনার একেবারে সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করা যায়নি।

রাঁচি ইউনিভার্সিটির জিওলজির হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছেন, কোনও জায়গায় ম্যাগনেটিক ফিল্ড যদি ভীষণ শক্তিশালী হয়, তাহলে ইলেকট্রনিক ডিভাইজ অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে, ভুল তারিখ ও সময় দেখাতে পারে। এটা এমন কিছু অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

আঞ্চলিক মানুষেরা এও বলেন, এই অংশের রাস্তা দুর্ঘটনাপ্রবণ। এই রাস্তায় অনেক গাড়িরই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক বিশ্বাস, এই অঞ্চলে ভূতের উপদ্রবও রয়েছে। (ছবি: AI)

ওই এলাকার বাসিন্দারা বলেন, তৈমারা ভ্যালি এলাকায় নাকি অনেকেই অশরীরী উপস্থিতি টের পেয়েছেন। অনেকেই নাকি একটি মেয়ের অবয়ব দেখতে পেয়েছেন এই রাস্তায়। তবে এই ঘটনার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই ফলে অনেকটাই লোক মুখে ছড়িয়ে পড়া কাহিনী হতে পারে।

অনেকেই নাকি গাড়ি চালাতে চালাতে দেখতে পান, রাস্তার মাঝে একটি সাদা শাড়ি পরা অবয়ব দাঁড়িয়ে রয়েছে। টাল সামলাতে না পেরে দুর্ঘটনা ঘটে অনেক সময়েই। তবে এই ঘটনার কোনও ব্যাখ্যা নেই বা প্রত্যক্ষদর্শীর খবরও পাওয়া যায়নি (ছবি – AI) এই প্রতিবেদন কোনও অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কারকে সমর্থন করে না। আঞ্চলিক মানুষদের অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বাসের কথাই তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
Published at : 16 Aug 2026 11:52 PM (IST)
