রাঁচি: রিল বানাতে গিয়েছিলেন। সটান এসে ধাক্কা মারল ট্রেন। দুই হাত কাটা গেল তরুণীর। রেললাইনে রিল বানাতে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর অবস্থা গুরুতর। দুই হাত বাদ যাওয়ার পাশাপাশি, শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। (Teen Loses Hand for Reels)
ঝাড়খণ্ডের গঢ়বার ঘটনা। মঙ্গলবার রেললাইনে রিল বানাতে গিয়েছিলে ১৯ বছর বয়সি পূর্ণিমা কুমারী। সেই সময় নগর উন্টারী স্টেশনের কাছে রাঁচি-চোপান এক্সপ্রেস ধাক্কা মারে তাঁকে। ট্রেন দেখেও তিনি সরেননি, ট্রেন দূরে রয়েছে, গতি শ্লথ ভেবেছিলেন পূর্ণিমা। (Viral News)
আরও পড়ুন: আমেরিকায় মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক, এবার মুখ খুললেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জ়োহরান মামদানিও
প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে জানা গিয়েছে, গঢ়বার বিহার এলাকা বাসিন্দা ধীরজ সিংহের মেয়ে পূর্ণিমা। বন্ধুদের সঙ্গে রিল বানাতেন পূর্ণিমা। মঙ্গলবার রাইসায় রেললাইনে রিল বানাতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেন আসছে বলে সতর্কও করা হয়েছিল পূর্ণিমাকে। কিন্তু ট্রেন ঢের দূরে, ধীর গতিতে এগোচ্ছে বলে মনে করেছিলেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর বাকিরাই পূর্ণিমাকে গঢ়বা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা হয় তাঁর। কিন্তু অবস্থা গুরুতর দেখে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন পরিবারের লোকজন। এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন পূর্ণিমা। তাঁর দুই হাত কাটা যায়নি শুধু, শরীরে গুরুতর চোট রয়েছে।
বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রিল বানানোর হিড়িকে বার বার এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে চললেও, তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ এখনও সচেতন নয় বলে মনে করছেন নেটিজেনরা। রেললাইন, নদী, জলপ্রপাত, হাইরাইজ় বিল্ডিং-সহ বিপজ্জনক জায়গায় রিল বানানোয় কোনও বিরাম নেই। সোশ্য়াল মিডিয়ায় লাইক, ভিউ এবং ফলোয়ার বাড়াতে প্রাণের ঝুঁকি নিতে পিছপা হন না অনেকেই।
পরিসংখ্যান বলছে, বিপজ্জনক ভাবে রিল বানাতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারান ভারতেই। এর মধ্য়ে ৮৬ শতাংশই তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়ে, বয়স ১০ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। কয়েক মাস আগেই দিল্লিতে রিল বানানোর সময় নিজে নিজেকে গুলি করে বসেন ২৮ বছর বয়সি এক যুবক। তুতো দাদার লাইসেন্সড পিস্তল নিয়ে রিল বানাচ্ছিলেন তিনি। SUV-তে চার বন্ধুকে চাপিয়ে রিল বানানোর সময় খাদে পড়ে যান ফরিদাবাদের ১৫ বছর বয়সি এক তরুণ এবং ৯ বছর বয়সি এক বালক। বাকি তিন জন আহত হন।
