কলকাতা: অবসর নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের কোনও উপার্জন থাকে না। আর সেই কারণেই অবসরের জন্য একটা প্রয়োজনীয় তহবিল তৈরি করা জরুরী। বেতনভোগী মানুষরা কিন্তু খুব সহজেই নিয়মিত এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা করতে পারেন। আর টাকা জমা করার মাধ্যমে একটা বিরাট তহবিল তৈরি করাও খুব সহজ। কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত জমা করা যেতে পারে।
সাধারণ হিসাবে EPF দুই ভাবে হয়। একটি হল মূল বেতনের সীমা ১৫ হাজার টাকা ধরে। অন্যটি হল মূল বেতনের উপর ১২ শতাংশ হিসাব করে। আর আপনি যে সংস্থাতেই কাজ করুন না কেন, সেই সংস্থা যে টাকা দেয়, তা দুই ভাগে বিভক্ত হয়। একটি ভাগ যায় প্রভিডেন্ট ফান্ডে। আর বাকি ১ হাজার ২৫০ টাকা জমা হয় পেনশন তহবিলে।
যদি সরকারি হিসাবে মূল বেতনের সীমা ১৫ হাজার টাকা ধরে আপনার সংস্থা হিসাব করে, তাহলে আপনার বেতন থেকে সংস্থা কাটে ১ হাজার ৮০০ টাকা। আর বাকিটা তারা দেয়। কিন্তু যদি ১২ শতাংশ হিসাবে যায়, তাহলে সংস্থা আপনার মূল বেতনের ১২ শতাংশ দেয়। আর আপনার বেতন থেকে কাটা হয় আরও ১২ শতাংশ টাকা। তবে, এই ক্ষেত্রে খেয়াল রাখের বিষয় এটাই, যে পেনশন তহবিলে কিন্তু বাড়তি টাকা জমা পড়ে না। বাড়তি টাকা জমা হয় প্রভিডেন্ট ফান্ডে। যদিও এই ক্ষেত্রে কর্মচারীর CTC বাড়ে না।
এ ছাড়াও আছে, VPF অর্থাৎ ভলান্টিয়ারি প্রভিডেন্ট ফান্ড। সেখানে যে কোনও চাকরিজীবী নিজের ইচ্ছা মত সর্বোচ্চ বেতনের ১০০ শতাংশ টাকাই জমা করতে পারে প্রভিডেন্ট ফান্ডে। ৩০ বছর বয়সী কোনও ব্যক্তি যদি সিদ্ধান্ত নেন সব মিলিয়ে, অর্থাৎ তিনি নিজে যা দেবেন ও তাঁর সংস্থা যা দেবে, সব মিলিয়ে মোট ১২ হাজার ৫০০ টাকার মত জমা করবেন। ধরা যাক, এই বিনিয়োগ বছরে ৬ শতাংশ হারে তিনি বৃদ্ধিও করেন। এ ছাড়াও সরকার বছরে ৮.২৫ শতাংশ সুদ দেয়।
আরও পড়ুন: ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করবেন ভাবছেন? SIP, লাম্পসাম নাকি FD; কোথায় বিনিয়োগ আপনার জন্য সঠিক হবে?
তাহলে প্রথম বছরে কর্মীর জমে মোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। সুদে – আসলে বছর শেষে ওই কর্মচারীর অ্যাকাউন্টে জমা হবে প্রায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। আর বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে সুদের পরিমাণও।
৫ বছর পর বছরে ৬ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি পেলে বছরের বিনিয়োগের পরিমাণ হয় প্রায় ১ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা। আর মোট কর্পাসের পরিমাণ হয় ১০ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার মত ও মোট বিনিয়োগ হয় ৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার মত। ১০ বছর পর মোট কর্পাস বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার মত। ১৫ বছর পর তা হয় ৬৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার মতো। ১৯ তম বছরে এই টাকা পৌঁছে যায় প্রায় ১ লোটি ৬ লক্ষ টাকায়।
২০ বছরে ব্যালান্স প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ছুঁয়ে ফেলে। ২৫ তম বছরে তা প্রায় ২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছয়। ২৮ বছরে ২ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা ও ২৯ বছরে ৩ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা হয়।
হিসাব অনুযায়ী, ৩০ বছর শেষে চূড়ান্ত ম্যাচিউরিটি পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা। মোট বিনিয়োগ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকায়। আর বাকি টাকা আসে সুদ থেকে।
তবে এটি নির্দিষ্ট অনুমানের ভিত্তিতে করা হিসাব। অবসরের পরিকল্পনায় মূল্যস্ফীতির বিষয়টিও বিবেচনা করা জরুরি। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত অবদান এবং চক্রবৃদ্ধি সুদই এই কর্পাস তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
