কলকাতা: দুর্গাপুজো, বাঙালির মনের পুজো, প্রাণের পুজো। দুর্গাপুজো হলো বাঙালি হিন্দু সমাজের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। যুগ যুগ ধরে যে নিয়ম, আচার-অনুষ্ঠান মেনে এই পুজো হয়ে আসছে, সেই পুজো নিয়ে নতুন করে পাঠ পড়াচ্ছেন মধ্য়প্রদেশের ‘বাগেশ্বর বাবা’। বাঙালির মায়ের পুজো নিয়ে নতুন নিদান কেন ?’দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা নোংরা খাবার তৈরি করা হয়।’ মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় পড়ে গেছে। প্রশ্ন উঠছে, যে বাঙালি যুগ যুগ ধরে নিয়ম-আচার মেনে দুর্গাপুজো করছে, তাকে খাবার নিয়ে পাঠ দেওয়ার মধ্য়প্রদেশের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী কে? শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এই ঘটনা নিয়ে এবার মুখ খুললেন নন্দিনী ভৌমিক।
হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে এসেছিলেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। সেখানেই বাঙালিকে দুর্গাপুজোর মাহাত্ম্য় বোঝালেন মধ্য়প্রদেশের সন্ত। বিতর্কিত ভাষা ব্য়বহার করলেন। কার্যত হুঁশিয়ারিও দিলেন। আর ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর এই কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন রাজ্য় বিজেপির শীর্ষ নেতারা। তাঁর সম্মানে রাজ্য অতিথি নিবাস ‘সৌজন্য’য় উপস্থিত ছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী। মন্ত্রিসভার সদস্যরা মাটিতে বসে নিরামিষ খাবারও খেয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন দুর্গাপুজোর সময় বাঙালি কোথায় কী খাবে, কী খাবে না, তা নিয়ে নিদান দেবেন মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী?
যে বাঙালি যুগ যুগ ধরে নিয়ম-আচার মেনে দুর্গাপুজো করছে, মন-প্রাণ দিয়ে উৎসব করছে, যার যা পছন্দ সেইমতো খাওয়া-দাওয়া-আনন্দ করছে, সেখানে তাঁকে খাবার নিয়ে পাঠ দেওয়ার মধ্য়প্রদেশের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী কে? এই প্রশ্নও কিন্তু উঠছে নানা মহলে। এই বিতর্ক এবং বাঙালির মায়ের পুজো নিয়ে মুখ খুললেন পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিক। তিনি বলেন, ”এখনও আমরা শুনি যে অনেক বাড়ির পুজোতে এবং কিছু কিছু বারোয়ারি পুজোতেও রোজ সম্ভব হয় না আর্থিক কারণেই, কিন্তু একদিন অন্তত মাছভোগ হয় মায়ের জন্য়। কারণ বাঙালি ভীষণভাবে বিশ্বাস করে যে মা বাপের বাড়িতে এসেছেন, তার ৪ ছেলে-মেয়ে নিয়ে। তো সুতরাং মায়ের যে বাপের বাড়ি আসা সেইটাকে সেলিব্রেট করতে গেলে বাঙালি তো মাছেভাতে বাঙালি, এটা আমাদের অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই।”
Abhishek Banerjee | ক্যামাক স্ট্রিট মামলা হাইকোর্টে ফেরাল সুপ্রিম কোর্ট | ABP Ananda LIVE
