কলকাতা: গতকালই ২ তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠকের পর ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর কাছে জবাব তলব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর জমা দেওয়া নথির প্রেক্ষিতে জবাব তলব কমিশনের। ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর জবাব চাইল কমিশন
প্রয়োজনে ১৭ সেপ্টেম্বর ফের শুনানি করতে পারে কমিশন।
গতকাল হেয়ারিং হয়েছিল। প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ঋত-তৃণমূলকে সময় দিয়েছিল কমিশন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়রা প্রায় ২ ঘণ্টার মত ছিলেন। এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। গত ১১ ও ১২ তারিখ কিছু অ্য়াডিশনাল ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূলের বিভিন্ন নথি, কাগজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ঋতব্রত তৃণমূলের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কমিশন জানতে চেয়েছে যে কালীঘাট তৃণমূলের কাছে এই সংক্রান্ত কী কী তথ্য রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে তার উত্তর চেয়েছে। ই-মেল করে বা পোস্টের মাধ্যমে আগামী ১৬ তারিখ দুপুর ৩টের আগে সব কিছুর উত্তর দিতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’কে।
যদি কপি দেওয়া হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে। আর সেই কপি বা তথ্য পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন মনে করেন যে কোনও পরবর্তী হেয়ারিংয়ের দরকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে পরবর্তী হেয়ারিংয়ের জন্য়ও ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। আগামী ১৭ তারিখ যার জন্য ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট তৃণমূলের পাশে তৈরি হয়েছে ঋতব্রত তৃণমূল শিবির। কিন্তু জোড়া ফুলের প্রতীক কার কাছে থাকবে? ‘কালীঘাট-তৃণমূল’? না ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’? দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গ, শনিবার এটাই ছিল মূল আলোচনার বিষয়। তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে জোড়াফুলের প্রতীক পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বিচার্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে, সাংগঠনিক পদাধিকারী এবং নির্বাচিত সাংসদ ও বিধায়কদের বেশিরভাগ কোন দিকে রয়েছেন সেই বিষয়টি।
‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের দাবি অনুযায়ী তাঁদের কাছে প্রয়োজনের থেকে অনেক বেশি বিধায়ক সংখ্যা রয়েছে। সাংগঠনিক যে পদাধিকারীদের সংখ্যার নিরিখেও তারাই এগিয়ে। কিন্তু সাংসদ সংখ্যা? তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত ২৮ জন লোকসভার সাংসদের মধ্যে ২০ জন NCPI-তে নাম লিখিয়েছেন। বাকি ৮ জন রয়েছেন কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরে। ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের সঙ্গে এখনও লোকসভার একজন সাংসদও নেই।
ECI on TMC: ‘জোড়াফুল’ কার? শুনানির পর কালীঘাট তৃণমূল-এর কাছে নথি চাইল কমিশন
