Headlines

Pahalgam Attack Anniversary: পহেলগাঁও হামলার এক বছর, নিহতদের শ্রদ্ধার্ঘ মোদির, কিন্তু এখনও উত্তর নেই বহু প্রশ্নের


নয়াদিল্লি: নয় নয় করে এক বছর পার পহেলগাঁও হামলার। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল রক্তাক্ত হয়েছিল ভূস্বর্গ। ২০২৬ সালের বুধবার, সেই বিভীষিকাময়  দিনটি একবছর পূর্ণ করল। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধেছিল, আড়াআড়ি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলও। এতদিন পরও সেই দিনটি স্মরণ করে শিউড়ে ওঠেন সকলে। আর সেই আবহেই পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। (Pahalgam Attack Unanswered Questions)

বুধবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা জানান মোদি। তিনি লেখেন, ‘গত বছর এই দিনে পহেলগাঁওয়ে ঘৃণ্য জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন নিরীহ মানুষজন। তাঁদের কখনও ভুলব না আমরা। শোকার্ত পরিবারগুলির কথা ভাবছি, কী ভীষণ ক্ষতির সঙ্গে যুঝছেন তাঁরা। দেশ হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ। ভারত কোনও রকমের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না। জঙ্গিদের চক্রান্ত সফল হবে না কখনও’। (Pahalgam Attack Anniversary)

গত বছর ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। মোট ২৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে তারা। গুলি করার আগে জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কেও জানতে চায়। জীবিত ছেড়ে দেওয়া হয় যাঁদের, তাঁদের বলা হয়, ‘মোদিকে গিয়ে বলিস…’। সেই হামলার পর নয় নয় করে এক বছর কেটে গেলেও, এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর অধরা। যেমন-

  • হামলার আগে বার বার করে গোয়েন্দাদের তরফে ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছিল। ৮ এপ্রিল অমিত শাহ উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকও করেন। তার পরও কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা গেল না, হামলার সময় কেন নিরাপত্তাবাহিনী বা পুলিশের কেউ ছিলেন না সেখানে, হামলার পরও দীর্ঘ ক্ষণ কেন পুলিশ বা সেনার দেখা ছিল না, উত্তর মেলেনি আজও। 
  • NIA-র তদন্তে পাওয়া গিয়েছে যে, বৈসরণ উপত্যকায় হামলা চালানোর দু’দিন আগেই পহেলগাওঁ পৌঁছে যায় অন্তত তিন জঙ্গি, যারা পরবর্তীতে এনকাউন্টারে মারা যায়। ফয়জল জাট ওরফে সুলেমান ২০২৩ সালেই জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশ করে এবং ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর Z-Morh-এর কাছে হামলাতেও যুক্ত ছিল সে। 
  • গত বছর ২৪ এপ্রিল সর্বদল বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, বৈসরণ উপত্যকা খোলার অনুমতি নেওয়া হয়নি পুলিশের কাছ থেকে। পুলিশি অনুমোদন ছাড়া যদি বৈসরণ উপত্যকা খুলে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল না কেন, তার উত্তরও অধরা। 
  • যেখানে হামলা চালায় জঙ্গিরা, প্রতিবছর সেখান দিয়েই অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেন পুণ্যার্থীরা। বৈসরণ থেকে ১০ কিলোমিটার দবরে, লিদরুতে শিবির রয়েছে CRPF-এর। হামলার পর তারাই ছুটে আসে। কিন্তু পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় বৈসরণে কেন নিরাপত্তা ছিল না, জানা যায়নি। বরং জানা যায়, বৈসরণে মোতায়েন রাখা CRPF বাহিনীকে হামলার ঠিক আগেই অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 
  • হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ জঙ্গিদের যে স্কেচ প্রকাশ করে, সেগুলি সঠিক নয় বলে পরবর্তীতে জানায় NIA. এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা সেনা বাহিনীর কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর নেই। 
  • জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য সংরক্ষিত অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহার করে উপত্যকাকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে নরেন্দ্র মোদি সরকার। নিরাপত্তার চাদরে কাশ্মীরকে মুড়ে ফেলা হয়েছে, আর সেখানে কোনও বিপদ নেই বলেও ঘোষণা করা হয়েছিল। এমনকি সেখানে পর্যটন ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠছে বলে দাবি করেছিলেন কিরেণ রিজিজু। কিন্তু উপত্যকায় সুরক্ষার খামতি যে রয়ে গিয়েছিল, পহেলগাঁও হামলাই তা প্রমাণ করে দেয়।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *