সন্দীপ সরকার, কলকাতা: নিলামে তাঁর জন্য ২ কোটি টাকা খরচ করেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। মনে করা হয়েছিল, তাঁকে খেলিয়ে বিপক্ষের যাবতীয় কৌশল দুরমুশ করে দেবে নাইট শিবির।
কিন্তু আইপিএল শেষ হওয়ার আগেই নিউজ়িল্যান্ডের অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্রকে বাড়ি পাঠিয়ে দিল কলকাতা নাইট রাইডার্স! যে সিদ্ধান্ত নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে।
১১ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট রয়েছে কেকেআরের ঝুলিতে। প্লে অফের ভাগ্য ঝুলছে সরু সুতোর ওপর। বাকি তিন ম্য়াচ জিতলেও যে প্লে অফের দরজা খুলবে, তা নয়। নির্ভর করে থাকতে হবে অন্যান্য দলের পারফরম্যান্সের ওপর।
আর সেই পরিস্থিতিতে রাচিন রবীন্দ্রকে বাড়ি পাঠিয়ে দিল কেকেআর!
বিস্মিত ভক্ত সমর্থকেরা। কারণ, কেকেআরের বাকি তিন ম্যাচই ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে। এবারের আইপিএলে শুরুর দিকে ইডেনের পিচে বড় স্কোর উঠেছে। প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তো ২২৬ তুলেছিল। তবে টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ছড়ি ঘুরিয়েছেন স্পিনাররা। এই মাঠে শেষ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ভেল্কি দেখিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী-সুনীল নারাইনরা। দুই স্পিনারের ঘূর্ণিতে বাক্সবন্দি হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। ম্যাচ জিতেছিল কেকেআর।
আরও পড়ুন: পঞ্জাবকে হারিয়ে আইপিএল প্লে অফের দৌড় জমিয়ে দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, সুবিধে হল কেকেআরের?
ইডেনে পরপর তিন ম্যাচ খেলবে কেকেআর। যার অর্থ, স্পিনারদের ভূমিকা ফের গুরুত্বপূর্ণ হবে। বরুণ চক্রবর্তী আবার চোটে কাবু। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে খেলেননি বরুণ। সেক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের শেষ ভাগে বাঁহাতি স্পিনার অলরাউন্ডার রাচিনকে দরকার হতেই পারত। তারপরেও ছেড়ে দেওয়া হল কেন?
কেকেআর শিবিরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নেপথ্যে দুই কারণ।
এক, কেকেআরের বাকি তিন ম্যাচেও রাচিন রবীন্দ্রকে খেলানোর সম্ভাবনা কম। বলা হচ্ছে, ১৮ কোটি টাকা দিয়ে কেনা মাথিশা পাথিরানাকেই খেলানো হচ্ছে না টিম কম্বিনেশনের জন্য, সেখানে কিউয়ি অলরাউন্ডারকে খেলানোর মতো পরিস্থিতি এর মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে না।
দুই, নিউজ়িল্যান্ড ক্রিকেট দল থেকে ফোন। শোনা গেল, রাচিনকে খেলানো হচ্ছে না, সেটা দেখে কেকেআর শিবিরে ফোন করেছা হয়েছিল কিউয়ি টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে। আইপিএলের পরের দিকে রাচিনকে খেলানো হবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। কেকেআর ম্যানেজমেন্ট থেকে ইঙ্গিত পেয়েই তাঁকে দেশে ফেরানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছে নিউজ়িল্যান্ড। ৪ জুন থেকে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট। লাল বলের ক্রিকেটের জন্য তৈরি রাখার লক্ষ্যেই রাচিনকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত।
