সমীরণ পাল, আশাবুল হোসেন ও আবির দত্ত: বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে উঠল মারাত্মক অভিযোগ। শরিকি বিবাদে মারধরের অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তবে এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া মেলেনি রেখার। (Rekha Patra Assault Allegations)
সন্দেশখালিতে শরিকি বিবাদে জড়ালেন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সন্দেশখালি থানার সাব ইনস্পেক্টর শাহজামান তরফদারকে প্রথমে ধাক্কা, তার পর আঙুল তুলে তর্ক করেন রেখা। শুধু তাই নয়, সন্দেশখালি থানার সাব ইনস্পেক্টরের জামার কলার ধরে বচসা করতেও দেখা যায় তাঁকে। ‘কী করবি?’, ‘কী করবি?’ বলে হুঙ্কার ছাড়তেও শোনা যায় তাঁকে। (BJP MLA Rekha Patra)
শরিকি বিবাদ থেকে ঝামেলার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগকারী দেবজ্যোতি নস্কর বলেন, “রেখা পাত্র এসে আমাদের মারধর করে। পুলিশ বাধা দিতে যায়। পুলিশকেও মারধর করে।” রুম্পি নস্করের বক্তব্য, “বলছে আমি MLA. আমি যেটা করব, সেটাই হবে। নিজে মারধর করছিল। লাঠি ছিল, বাঁশ ছিল, তা দিয়ে আমাদের মেরেছে। জমির দখল নিতে এসেছে। উনি যখব ক্ষমতায়, এসে বলছেন, আমার বাবার জমি আছে। আমি এখানে চাষবাস করব। ক্ষমতায় আছেন বলে দখল করতে আসবেন! সেটা তো মেনে নেব না আমরা!”
রবিবার সন্দেশখালির বৌঠাকুরানিতে যান রেখা। অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের রায়ে সেই সময় সেখানে চাষবাস করছিলেন তাঁরা। পুলিশও ছিল। আচমকা সেখানে চড়াও হন রেখা। দেবজ্যোতি বলেন, “আমরা জমিতে গিয়েছিলাম আদালতের রায় অনুসারে। কিছুটা রোয়ার পর হঠাৎ রেখা পাত্র এসে মারধর করে আমাদের। পুলিশ বাধা দিতে গেলে পুলিশকেও মারধর করে। ওর যে দেহরক্ষী ছিলেন, তাদের সামনেই আমাদের মারধর করেছে। বলেছে, দেখে নেবে সবাইকে। পৈতৃক সম্পত্তির দখল নিতে চাইছে। আমরা শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে বিচার চাইছি। বিধায়ক অত্যাচার করেছে। যেন এর ন্যায় বিচার হয়। যেন শাস্তি হয়।”
এ নিয়ে বসিরহাটে বিজেপি-র সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুকল্যাণ দাবির বক্তব্য, “এটা সম্পূর্ণ পারিবারিক বিষয়। কী হল জানার জন্য ফোন করেছিলান ওঁকে। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক যোগাযোগ করে উঠতে পারিনি।”
বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “রেখা পাত্রের তো সর্বশক্তিমান গোছের ভাব! প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ফোন করেছিলেন। তার পর সাংসদ ভোটে দাঁড় করিয়েছেন। বিধায়ক হয়েছেন তিনি। বিজেপি হলে যদি জমি দখল করা যায়, পুলিশকে হেনস্থা করা যায়, তাহলে মানসম্মান বলে কিছু থাকবে না দেশে। এরাই সব বিজেপি-র নেতানেত্রী। কী করা যাবে! খুবই দুর্ভাগ্য আমাদের।”
অন্য দিকে, ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র দোলা সেন বলেন, “১২-১৩ বছর ধরে মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায় জমানায় বাস করছি। এখন বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার। উনি বিধায়ক হয়েছেন, নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করছেন।”
দলের বিধায়কের এহেন আচরণ নিয়ে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিধায়কের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা রাজনৈতিক অভিযোগ নয়। পারিবারিক অশান্তি নিয়ে বিধায়কের কাছে কেউ আসতেই পারেন। তাঁকে স্ট্যান্ড নিতে হবে। বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে পারে। তবে এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে বিজেপি-র কোনও নেতা বা কর্মী যুক্ত নন। পুলিশ আক্রান্ত হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কঠোর হতে হবে পুলিশকে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পুলিশ টেবিলের নীচে ঢুকে পড়বে না।”
এই ঘটনায় দু’পক্ষই সন্দেশখালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে প্রতিক্রিয়া মেলেনি বিজেপি বিধায়ক রেখার।
CM Suvendu Adhikari: গোল পার্ক থেকে যাদবপুর 8B পর্যন্ত মিছিলে হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী
