
যত দিন যাচ্ছে বাড়ছে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সার বাড়ছে, যার দরুণ মুখ, গলা, স্বরযন্ত্র, নাক এবং তার আশপাশের কোষে থাবা বসায়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তামাকসেবন, মদ্যপানের অভ্যাসকে ওই ধরনের ক্যান্সারের জন্য দায়ী করা হয়। পাশাপাশি, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের সংক্রমণও বাড়ছে।

সহজ এবং সস্তায় যেনতেন প্রকারে ওই সংক্রমণ ঠেকানোর উপায় ছুঁজছিলেন গবেষকরা। এবার সেই উপায় খুঁজে বের করলেন তাঁরা। সংক্রমণ ক্যান্সারের আকার ধারণ করার আগেই যাতে ঠেকানো যায়, তার জন্য বিশেষ ধরনের চিউয়িং গাম তৈরির উপায় বের করলেন।

ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভ্য়ানিয়ার বিজ্ঞানীরা যে বায়ো ইঞ্জিনিয়ার্ড যে চিউয়িং গাম তৈরি করেছেন, তা মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর ভাইরাস এবং ব্যাকটিরিয়ার বৃদ্ধি ঠেকাতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের হাতে আসেনি ওই চিউয়িং গাম। বরং তার কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে গবেষণাগারে। অদূর ভবিষ্যতে ক্যান্সার ঠেকানোর উপায় হিসেবে ওই চিউয়িং গামের ব্যবহার বাড়বে বলে মত গবেষকদের। প্রাথমিক পর্যায়ে সন্তোষজনক ফলও মিলেছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, টিকাকরণ, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং চিকিৎসার কোনও বিকল্প নেই।

ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভ্যানিয়ার স্কুল অফ ডেন্টাল মেডিসিনের হেনরি ড্যানিয়েল নেতৃত্বাধীন গবেষকদের টিম শিমের (Lablab Beans) বীজ দিয়ে তৈরি বিশেষ বায়ো ইঞ্জিনিয়ার্ড চিউয়িং গামটি পরীক্ষা করে দেখেছেন। দেখা গিয়েছে, ওই চিউয়িং গামে অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল উপাদান রয়েছে, যা মুখের ভিতরের ক্ষতিকর জীবাণুগুলির বাড়বাড়ন্ত আটকায়।

মাথা এবং ঘাড়ের স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (HNSCC) ক্যান্সারে আক্রান্ত যাঁরা, তাঁদের মুখ, নাক এবং গলার ভিতরের চ্যাপ্টা কোষ থেকে রোগের সূচনা ঘটে। তামাকদ্রব্য, মদ এবং HVP ভাইরাসের সঙ্গে সংযোগ পাওয়া যায় রোগের। HNSCC রোগীদের লালা এবং মুখ ধোয়া জল নিয়ে গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, ওই বিশেষ ধরনের চুইংগাম রোগীদের লালা এবং মুখ ধোয়া জলে HPV-র মাত্রা ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, পোর্ফিরোমোনাস জিঞ্জিয়াভ্যালিস (Porphyromonas Gingivalis) এবং ফিউসোব্যাকটিরিয়াম নিউক্লিয়াটাম নামের আরও দুই ক্ষতিকর ভাইরাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে দিয়েছে ওই চিউয়িং গাম। মাথা এবং মুখের ক্যান্সার রোগীদের অবস্থার অবনতির জন্য দায়ী ওই দুই ভাইরাস।

HPV এমন একটি ভাইরাস, যা ত্বকের সংস্পর্শ এবং যৌনতার মাধ্যমে ছড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে HPV সংক্রমণ আপনা থেকে সেরে যায়। তবে অনেক সময় শরীরে থেকে যায় ভাইরাস এবং গলা-সহ অন্য় ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

আরও কিছু ব্যাকটিরিয়া চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা, যা ক্যান্সারের চিকিৎসাকে কার্যকর হতে দেয় না। ক্যান্সারকে বাড়িয়ে তোলে। বায়ো ইঞ্জিনিয়ার্ড চিউয়িং গাম তাদের ঠেকাতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, ওই চিউয়িং গামে FRIL নামের প্রাকৃতিক অ্যান্টিভাইরাল প্রোটিন রয়েছে, যা শিমের বীজে থাকে। সেটি HPV-কে ঠেকায়। পাশাপাশি, Protegrin নামের একটি অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল পেপটাইড রয়েছে, যা মুখের ভিতরের ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়ার উপর আঘাত হানে।

চিউয়িং গামটি চিবোলে ওই মুখের লালায় তার উপাদান মিশে যায়। সরাসরি ভাইরাস এবং ব্যাকটিরিয়ার উপর আঘাত হানে। ফলে চিকিৎসা আরও কার্যকর হয়ে ওঠে এবং শরীরের অন্যত্র কোনও প্রভাব পড়ে না। আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে গবেষকদের, যা হল, এই চিউয়িং গাম মুখের ভিতর থাকা উপকারী ব্যাকটিরিয়াগুলির ক্ষতি করে না। ফলে মুখের ভিতরের স্বাস্থ্যকর অনুজীবের ভারসাম্য বজায় থাকে, যা পরিপাকে সাহায্য় করে আমাদের, সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং মুখের স্বাস্থ্য ভাল রাখে।

বিশেষ ধরনের চিউয়িং গামটি মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সার হতে দেয় না বলে কোনও প্রমাণ মেলেনি এখনও পর্যন্ত। তবে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী, ঝুঁকিপূর্ণ অণুজীবগুলির সংখ্যা কমাতে পারে। নিয়মিত চিবোলে ক্যান্সার কমে কি না, কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় কি না, তার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল জরুরি। তবে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেটির সম্ভাবনা বেশ ভাল বলে মনে করা হচ্ছে। চিউয়িং গামটি নিয়ে গবেষণা এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। সাধারণ মানুষের উপর প্রয়োগের অনুমতি মেলেনি এখনও পর্যন্ত। তথ্যসূত্র: https://www.sciencedaily.com/releases/2026/08/260803080917.htm
Published at : 06 Aug 2026 10:07 AM (IST)
