কলকাতা : কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিট – ২ জায়গায় কেন তল্লাশি চালাল সিআইডি। সিআইডি সূত্রে খবর, অরিজিনাল রেজোলিউশন বুক খুঁজছে তারা। কী রয়েছে সেখানে? এই অরিজিনাল রেজোলিউশন বুকে বিধায়করা সই করেছিলেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিয়ে বিধানসভার স্পিকারকে পাঠিয়েছিলেন যে ওই দিন রেজোলিউশন হয়েছে বিধানসভায় তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা হবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং চিফ হুইপ হবেন ফিরহাদ হাকিম ও অন্যান্য পদ কে কী পাবেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত ৯ মে বিধানসভার স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়ে জানান যে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং অন্যান্য কোন কোন পদে কাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর বিধানসভার তরফে জানতে চাওয়া হয় যে এই সিদ্ধান্ত কবে, কোথায় হল? বিরোধী দল তৃণমূল নিশ্চয় বিধায়কদের নিয়ে কোনও মিটিং করে তারপরেই এই রেজোলিউশন নিয়েছে। তাহলে সেই রেজোলিউশন কপি কোথায়? এরপর ২০ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে আরেকটি চিঠি পাঠানো হয় এবং তার সঙ্গে যুক্ত ছিল রেজোলিউশনের একটি কপি। সেখানে দেখা যায় ৬ মে ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে একটি মিটিং হয়েছে। সেই বৈঠকে হাজির থাকা বিধায়করা রেজোলিউশন কপিতে সই করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০ মে- র পাঠানো চিঠিতে লেখা ছিল যে ৬ তারিখ একটি বৈঠক হয়েছে ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে বিরোধী দলনেতা হবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চিফ হুইপ হবেন ফিরহাদ হাকিম এবং অন্যান্য কোন পদ কে পাবেন।
এরপর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা – এই দুই তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ করে জানান যে, রেজোলিউশন কপি বলে ৬ তারিখের যে কপি জমা দেওয়া হয়েছে, আসলে সেই দিন ওই সইগুলো করা হয়নি। ৬ তারিখ এরকম কোনও রেজোলিউশনই হয়নি। বলা হয় এই রেজোলিউশন হয়েছে ১৯ তারিখ। তারপর ২০ তারিখ চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন বিধায়কের নাম ব্লক লেটারে লেখা হয়েছে এবং এই ১৪ জন বিধায়কদের সবাই ১৯ তারিখের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।অভিযোগ পেয়ে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে তিন বিধায়ক সিআইডি-র কাছে স্বীকার করেন বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিধায়ক বাহারুল ইসলাম জানান। তিনি ১৯ তারিখের বৈঠকে যাননি। মহেশতলার শুভাশিস দাস জানান এবং হাওড়া মধ্য- র বিধায়ক অরূপ রায়ও জানান যে ওই সই তাঁদের নয়।
সব্যসাচীকে দেখে ফের ডিম ছুড়লেন বিক্ষোভকারীরা, আদালত থেকে বের করার সময়েও তীব্র জনরোষ
এরপর সিআইডি- র তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলা হয় তিনি যেন অরিজিনাল রেজোলিউশন কপি নিয়ে ভবানীভবনে হাজিরা দেন, যেহেতু তিনি বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। প্রথম নোটিসের পর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ভবানীভবনে যাননি অভিষেক। মোট তিনবার নোটিস দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন নম্বর নোটিস দেওয়া হয় ৮ জুন। সেখানে ৯ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয় ভবানীভবনে। যদিও সময় শেষের কিছু আগেই নোটিস দিয়ে অভিষেক জানিয়ে দেন যে তিনি যেতে পারছেন না। এই বিষয়ে তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেখানে মামলা মুলতুবি রয়েছে। এর পাশাপাশি অভিষেক তাঁর চিঠিতে এও জানান যে অরিজিনাল রেজোলিউশন বুক তাঁর কাছে নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে চিঠি দিয়ে যখন সিআইডি-কে জানিয়ে দেন যে তাঁর কাছে অরিজিনাল রেজোলিউশন বুক নেই, এরপরই সিআইডি- র তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে অরিজিনাল রেজোলিউশন বুক না পেলে তদন্তের কাজ এগোবে না। আর তাই ওই অরিজিনাল রেজোলিউশন বুকের খোঁজেই মঙ্গলবার ৯ জুন ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে তল্লাশি অভিযান চালায় সিআইডি।
