লিসবন: নিজেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ(FIFA World Cup) হতে চলেছে। সেই মত গত বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে স্পেনের বিরুদ্ধে খেলতে নামা ম্য়াচটিই তাঁর কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্য়াচ হয়ে গিয়েছিল। কারণ সেই ম্য়াচে স্পেনের বিরুদ্ধে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যেতে হয়েছিল পর্তুগালকে। চোখের জলে শেষবার বিশ্বকাপেক মঞ্চ ছেড়েছিলেন সি আর সেভেন। এবার হয়ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসরেরে দিনটিও পাকা হয়ে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর(Cristiano Ronaldo)।
২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবল কেরিয়ারে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ জোটেনি ভাগ্যে। কেরিয়ারে অজস্র মণি-মাণিক্য ছড়ানো। পাঁচটি ব্যাঁল ডি অর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, সৌদি প্রো লিগ, সিরি এ খেতাব। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করার মালিক এখনও ক্রিশ্চিয়ানোই। কিন্তু সবকিছুর শেষ বোধহয় হতে চলেছে আর দু মাস পরেই।
বিখ্য়াত ক্রীড়া সাংবাদিক মহম্মদ আওয়াদের রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ ইউয়েফা নেশন্স লিগে ওয়েলসের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে পর্তুগাল। সেটিই হয়ত হতে চলেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর শেষ ম্য়াচ ফুটবল কেরিয়ারের। সেই ম্য়াচটি হবে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে। যেখান থেকে নিজের ফুটবল কেরিয়ার শুরু করেছিলেন কিংবদন্তি এই ফুটবলার। আওয়াদ জানিয়েছেন যে তিনি পর্তুগালের এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি এই বিষয়ে সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। নেশন্স লিগে ওই একটি ম্য়াচ খেলেই বুটজোড়া তুলে রাখতে চলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। আওয়াদ আরও জানিয়েছেন যে পর্তুগাল ফুটবল দল হোর্হে জেসুসের কোচিংয়ে খেলতে নামবে সেই টুর্নামেন্টে আর লিসবনে ঘরের মাঠে, দেশের সমর্থকদের সামনেই রাজকীয়ভাবে ফেয়ারওয়েল দেওয়া হতে পারে বিশ্ব ফুটবলের অন্য়তম সেরা স্ট্রাইকারকে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪৬টি গোল ও ৪৬টি অ্য়াসিস্ট রয়েছেন রোনাল্ডোর। বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ৬টি বিশ্বকাপেই গোল করার নজিরও গড়েছেন গত বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে গোল করার পরই। এছাড়াও বিশ্ব ফুটবলে আন্তর্জাতিক ম্য়াচ খেলার নিরিখে সবচেয়ে বেশি ম্য়াচও রোনাল্ডোর ঝুলিতে। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩টি ম্য়াচ খেলেছেন তিনি তাঁর গোটা কেরিয়ার জুড়ে। তাঁর নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ ইউরো, ২০১৯ ও ২০২৫ নেশন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কেরিয়ারে শুধু বিশ্বকাপটাই জেতা হয় নি রোনাল্ডোর। ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে পর্তুগাল রয়েছে। কিন্তু তখন সি আর সেভেনর বয়স হয়ে যাবে ৪৫ বছর, তাই ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলে অবসর নেওয়ার রিস্ক হয়ত নিতে চাননি আর এই কিংবদন্তি।
