
ক্ষুদ্র মানেই তুচ্ছ নয়, হাড়ে হাড়ে বোঝাচ্ছে এডিস ইজিপ্টাই। ডেঙ্গি, ম্য়ালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্য়া যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ।কারও কারও তো ডেঙ্গি-ম্য়ালেরিয়া একসঙ্গে ২টোই হচ্ছে, কোনও ক্ষেত্রে আবার একসঙ্গে হচ্ছে ম্য়ালেরিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ।

তবে রাজ্য প্রশাসন জানাচ্ছে, ডেঙ্গির উপসর্গ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে এবং ডেঙ্গি টেস্ট করাতে হবে। বিশেষ করে এইসময়টাই বাড়ির কোথাও জমা জল থাকলে , পরিষ্কার করতে হবে, বিশেষ করে টায়ার, কোনো কৌটো, ফাঁকা টব ছাদ বা কোথাও ল জমতে দেওয়া যাবে না। না হলেই ডেঙ্গির বাহক মশার লার্ভা জন্ম নেবে। পাশাপাশি এইসময়টায় মশারি টাঙিয়ে শোওয়া উচিত। তাহলেও ডেঙ্গি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

ভরা বর্ষায় রাজ্যে বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্য়া। গত বুধবার দমদমের ডেঙ্গি আক্রান্ত এক বালকের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় জেলায় জমা জল ও আবর্জনা থেকে বাড়ছে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যাও।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে জরুরি বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা এই মুহূর্তে প্রায় ৩ হাজার।

পাশাপাশি বাড়ছে মশাবাহিত অন্য রোগও। ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৫ হাজারের বেশি।যার মধ্যে সব থেকে বিপজ্জনক ‘প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম’ ম্যালেরিয়া।এতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬২ জন।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ জয়দেব রায় বলেন, ডেঙ্গি বাড়ছে। উপসর্গের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রবল ঝড় এবং চোখের করোটিতে ব্যাথা। রোগীর সংক্রমণ ছাড়া ম্যালেরিয়া বা ইনফ্লুয়েঞ্জা একইসঙ্গে হচ্ছে। একটা রেফারেন্স দিচ্ছেন। আমার একটি রোগীর ক্ষেত্রে একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল প্রথমে বেরোল অন্য়, পরবর্তীকালে দেখা যায় সেই ডেঙ্গি আক্রান্ত। চিকিৎসকদের প্রাথমিকভাবে উপসর্গ দেখে চিহ্নিত করতে অসুবিধা হচ্ছে। শিশুর অভিভাবকদেরও বলব জ্বর হলে যেন কোন অবহেলা না করে।

একদিকে ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়ছে অন্যদিকে একই ব্যক্তি ডেঙ্গি ছাড়াও অন্যান্য ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে ফলে চিকিৎসকদের বিভ্রান্তি বাড়ছে।

রাজ্য়জুড়ে গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, জায়গায় জায়গায় জমছে জল, আর তাতেই জন্মাচ্ছে ডেঙ্গির মশার লার্ভা।এই প্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলছেন চিকিৎসকরা।

মাইক্রোবায়োলজিস্ট সৌগত ঘোষ বলেন,’ডেঙ্গি এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে সতর্ক হবার প্রয়োজন আছে এবং দ্রুত মানুষের কাজে এলে সুবিধা হবে। এই ধরনের টানা বৃষ্টি চলতে থাকলে আর তার মাঝে মাঝে বেশ কয়েকদিন বৃষ্টি না থাকলে এই ডেঙ্গির মশার কি হয় ফলে সতর্ক থাকার প্রয়োজন আছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের ডেঙ্গির মিটিং প্রত্যেক মাসেই হয়। রোগকে লুকিয়ে রোগ কমবে না। পরিসংখ্যান থেকে আমরা কী পাই? আমাদের রোগের ভয়াবহতা পাই, প্রবণতাটা পাই। প্রবণতা বেশি হলে লড়াই বাড়াতে হবে, লুকিয়ে কী করব? ‘
Published at : 02 Sep 2026 06:37 AM (IST)
