- কলকাতার একাধিক ঠিকানায় ইডি হানা, পুলিশ কমিশনারের ফ্ল্যাটেও তল্লাশি।
- জয় এস. কামদারের বাড়ি থেকে দেড় কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল।
- শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম উঠে আসে তদন্তে, তল্লাশি চলছে।
- দিলীপ ঘোষের মতে, দুর্নীতিতে পুলিশের বড় যোগ রয়েছে।
কলকাতা: রবিবাসরীয় সকালে কলকাতার একাধিক ঠিকানায় ইডি হানা! দিনের আলো ফোটার আগেই, আজ বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ইডি আধিকারিকরা। আজ কাকভোরে, একদিকে বালিগঞ্জে ফার্ন রোডে ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ইডি। অন্যদিকে, আজ সকালেই সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় এস. কামদারের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। সদ্যই এই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল ১ কোটিরও বেশি টাকা। আজ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়, যে যে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, সেই বাড়ি ও আবাসন। মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ২টি ঠিকানাতেই চলছে তল্লাশি।
কেন ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের বাড়িতেই তল্লাশি?
কে এই শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস? তাঁর প্রথম পরিচয়, তিনি ডেপুটি পুলিশ কমিশনার। তবে তিনি দীর্ঘদিন সামলেছেন, কালীঘাট থানার দায়িত্ব। কীভাবে উঠে এল তাঁর নাম? ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুর বাড়িতে যে তল্লাশি অভিযান চলেছিল, সেদিনই এক ব্যবসায়ী, জয় এস. কামদারের বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। এই মামলার তদন্ত করতে গিয়েই উঠে আসে, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের নাম। জানা যাচ্ছে, জয় এস. কামদারের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে নাম ছিল, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের। কোথায় গেল টাকা, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই, পুলিশ পেয়ে যায় শান্তনু সিন্হার নাম। সেই কারণেই আজ শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের ২টি ঠিকানাতেই হান দিয়েছে ইডি।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে ED Raid, কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?
ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে ইডি রেড প্রসঙ্গে এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘পশ্চিমবাংলায় যে দুর্নীতি হয়েছে, তার সঙ্গে পুলিশের একটা বড় যোগ রয়েছে। কয়লার টাকা, বালির টাকা, গরুর টাকা তুলে তাঁরা তৃণমূল নেতাদের দিয়ে আসেন। অনেক অফিসার বহু কোটি টাকার মালিক, বাড়ি গাড়ি করেছে। এখন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি না হয়, তাহলে ৪ তারিখ যখন নতুন সরকার আসবে, তখন সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ বাঁচবে না।’
জয় এস. কামদারের বাড়িতে ED হানা
অন্যদিকে আজ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ছাড়াও, জয় এস. কামদারের বাড়িতে হানা দেওয়া হয়। তবে কাকভোরে গিয়েই জয় এস. কামদারের বাড়িতে ঢুকতে পারেনি ED। প্রায় ৪০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। বন্ধ করে রাখা হয় বিশাল দরজা। পরে দরজা খুলে ভিতরে ঢোকেন আধিকারিকরা।
