নয়াদিল্লি: সাধারণ পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভব কি? কেন্দ্রীয় সরকারের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ NITI Aayog-এর রিপোর্টেই এবার সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। শুধুমাত্র BA, BSc, BCOM ডিগ্রিতে ভাল চাকরি পাওয়া যে মুশকিল, তা বলছে NITI Aayog-এর রিপোর্টই। জানা গেল, ভারতে শুধুমাত্র ৮.২৫ শতাংশ জনসংখ্যাই যোগ্যতা অনুরূপ চাকরি করেন। শুধুমাত্র ডিগ্রি হাসিল করলেই হল না, তার সঙ্গে দক্ষতার সংযুক্তিকরণের উপর জোর দিল তারা। (NITI Aayog on Job Crisis)
Reimagining Skilling for Viksit Bharat 2047 শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে NITI Aayog, যাতে বলা হয়েছে, দেশের উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তা মোটেই সাযুজ্যপূর্ণ নয়। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠাবের পঠনপাঠন যুগপোযোগী নয়, সামঞ্জস্য়পূর্ণ নয় শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়ার সঙ্গে। তাই ডিগ্রি, ডিপ্লোমা এবং সার্টিফিকেট থাকলেও চাকরি পাওয়া নিশ্চিত নয়। (Education System)
আরও পড়ুন: মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিক্রি? পিছু হটল ক্যাডবেরি ডেয়ারি মিল্ক, বর্নভিটা, ওরিও, Amway…কী জানাল FSSAI?
২০২৪-’২৫ সালের একটি অর্থনৈতিক সমীক্ষাও তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। বলা হয়েছে, যোগ্যতা অনুযায়ী দেশের ৮.২৫ শতাংশ মানুষই চাকরি পেয়েছেন। অর্থাৎ ৯০ শতাংশের বেশি স্নাতক এমন চাকরি করছেন, যা তাঁদের শিক্ষার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়। বহু শিক্ষিত মানুষ বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই মুহূর্তে। স্নাতক ডিগ্রি থাকা ১৩ শতাংশ মানুষ, ২০.৪ শতাংশ স্নাতক মহিলা কর্মহীন। সর্বভারতীয় স্তরে বেকারত্বের হার এই মুহূর্তে ৩.২ শতাংশ।
কর্মক্ষেত্রে সাধারণ ডিগ্রির আর তেমন গুরুত্ব নেই বলে পরিষ্কার জানিয়েছে NITI Aayog. কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, যে ৩.৫ কোটি পড়ুয়া স্নাতকস্তরে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১.১৩ শতাংশ BA কোর্স বেছে নিয়েছেন। BA, BSc এবং BCom মিলিয়ে সাধারণ স্নাতক কোর্সে ভর্তি হয়েছেন ২ কোটির বেশি পড়ুয়া।
আরও পড়ুন: আশীর্বাদ আটা, ফরচুন সয়াবিন অয়েল নিয়ে বিতর্ক, ITC-কে শোকজ করা নিয়ে আদালত বলল…
সরকারি চাকরির আশাতেই পড়ুয়ারা সাধারণ স্নাতক ডিগ্রির কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন বলে জানিয়েছে NITI Aayog. ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৫৫ হাজার সরকারি শূন্যপদে আবেদন করেন ১.৮৬ কোটি মানুষ। ডিগ্রি কলেজ, ITI, পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা চোখে পড়ছে, যার দরুণ উচ্চশিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে। এর জন্য শিল্পক্ষেত্র, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্বলিত মডেল প্রয়োজন। প্রয়োজন পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ, কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক শিক্ষা, দক্ষতাবৃদ্ধির উপায়, যাতে কর্মসংস্থানের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা বজায় থাকে।
দেশের উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সুপারিশ করেছে NITI Aayog. তাদের মতে, সাধারণ ডিগ্রি কোর্সের পরিবর্তে কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। শুধুমাত্র BA, BSc, BCom নয়, BA Hospitality, BCom Analytics এবং BSc অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজির মতো কোর্স চালু করা প্রয়োজন। অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এমবেডেড ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু করা হলেও, তার প্রয়োগ এখন সীমিত। কারণ হাতেকলমে কাজের অভিজ্ঞতা সম্বলিত ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ সেভাবে পাচ্ছেন না পড়ুয়ারা।
শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও নমনীয় করে তোলার সুপারিশও করেছে NITI Aayog. বলা হয়েছে, মডিউলার, পার্ট-টাইম, হাইব্রিড এবং শিক্ষালাভের সঙ্গেই উপার্জনের সুযোগ থাকে এমন মডেল চালু করতে হবে, যা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ করে দেবে। শিক্ষাব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রগুলিকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন পড়ুয়ারা।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI
