বিটন চক্রবর্তী, পূর্ব মেদিনীপুর: প্রথম দফাতেই ভোট হয়ে গিয়েছে নন্দীগ্রামে। মোটের ওফর শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট মিটেছে, তেমন অশান্তির খবর প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ভোট পরবর্তী সময়ে নন্দীগ্রামে প্রকাশ্যে চলে আসছে, বিক্ষিপ্ত ভোট পরবর্তী হিংসার ছবিটা! নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের বয়াল দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালচক বাণীবিতান বুথে এক জেলে পরিবারের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। বিজেপি করার অপরাধে, পুড়িয়ে দেওয়া হল জেলেদের মাছ ধরার জাল! অভিযোগের তীর তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের বিরুদ্ধে!
গভীর রাতে মাছ ধরার জেলে আগুন!
ঠিক কী ঘটেছে? জানা যাচ্ছে, গোপালচক বাণী-বিতান বুথের মৎসজীবি শঙ্কর খালুয়া বিজেপি সমর্থক। পেশায় মৎসজীবি শঙ্কর বিজেপির সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘদিন থেকেই। ওই মৎসজীবি অভিযোগ করছেন, তাঁদের শাসানো হয়েছিল যে, নির্বাচনের পরে তাঁদের দেখে নেওয়া হবে। আর তারপরেই, শনিবার রাতে তাঁদের মাছ ধরার জালে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। জেলে পরিবারের অভিযোগ, এইভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ফলে, প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। জেলে পরিবারের অভিযোগ, রাতের খাবার খেয়ে সবাই যে যার ঘরে শুয়ে পড়েছিলেন ওই পরিবারের। হঠাৎ প্রতিবেশীরা দেখতে পান, দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে! চিৎকার, চেঁচামেচিতে বাড়ির সবার ঘুম ভেঙে যায়। তাঁরে ছুটে এসে দেখেন, দাউদাউ করে জ্বলছে তাঁদের মাছ ধরার সমস্ত জাল।
দুই ভাইয়ের সমস্যা?
শঙ্কর খালুয়ার পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ, সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সমর্থকেরা মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষরক্ষা করা যায়নি। পুড়ে যায় সমস্ত জাল। তবে স্বস্তির খবর এটুকুই যে, বড় আর্থিক ক্ষতি হলেও, ক্ষতি হয়নি কোনও মানুষের। আক্রান্ত পরিবারের সদস্য শংকর খালুয়া অভিযোগ, তাঁর ভাই সুদর্শন খালুয়া তৃণমূল সমর্থক। তিনিই নাকি বিভিন্ন কারণে হুমকি দিলেন শঙ্করকে। এমনকি এর আগেও, শঙ্করের ঘরে ভাঙচুর চালানো থেকে শুরু করে, পুকুরে বিষ মিশিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর সব কাজ ও করেছেন শঙ্করের ভাই সুদর্শন। এ বারে নির্বাচনের আগে সুদর্শন নাকি হামেশাই শঙ্করকে হুমকি দিতেন, নির্বাচনের পরে তাঁদেরকে দেখে নেওয়া হবে। আর নির্বাচন মিটতেই এমন একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেল পরিবারের। তবে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই সুদর্শন খালুয়ার বাড়ি এদিন তালা বন্ধ ছিল। রাজনৈতিক কারণে যে এই ঘটনা ঘটেছে, সেই কথা অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি।
