টরন্টো: ভারতীয় সময় অনুযায়ী আজ ভোররাতে চল্লিশোর্ধ দুই মহাতারকা একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন। কথা হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আর লুকা মদ্রিচের। কেরিয়ারের সায়াহ্নে উপনীত দুই মহাতারকার একজন সম্ভবত আজই শেষ বার নিজের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন। এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ ধীরে ধীরে চড়ছে। উত্তেজনা বাড়ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে (Cristiano Ronaldo) ঘিরেও।
আজ থেকে দেড় দশকেরও অধিক সময় আগে ২৪ বছর বয়সি এক তরুণ রোনাল্ডো সদ্য সদ্য রিয়াল মাদ্রিদে সই করার পরে টরেন্টোয় খেলতে এসেছিলেন। সেই সময়ও টরন্টোয় রোনাল্ডোকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল চরমে। এর পরে ১৭টা বছর কেটেছে। গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে যা যা জয় করাসম্ভব, সবই জিতেছেন ‘সিআর৭’। অধরা কেবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। সেই অধরা স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যেই মরিয়া রোনাল্ডোর বর্তমান স্টপ টরন্টো।
আরও পড়ুন:- স্ত্রী, সন্তানকে বাঁচাতে বিক্রি করেছিলেন নিজের কিট, জার্মানদের বিপক্ষে পেনাল্টি রুখে নায়ক সেই হিল
টরন্টোর মাঠেই পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া মুখেমুখি হবে। তার আগে ইতিমধ্যেই পর্তুগাল কানাডায় পৌঁছে গিয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার রোনাল্ডোসহ পর্তুগাল দল কানাডায় নামতেই তাঁদের ঘিরে উত্তেজনা, উন্মাদনার ঢল। আকর্ষণের কেন্দ্রে রোনাল্ডোই। তাঁকে কয়েক সেকেন্ড দেখার জন্যই মোড়ে মোড়ে ভিড় জমিয়েছিলেন কানাডিয়ান সমর্থকরা। কেউ কেউ উঁচু বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠেন, তো কেউ আবার একে অপরের কাঁধে। সকলের লক্ষ্য একটাই, রোনাল্ডোকে এক ঝলক দেখা।
সেই দিন টরন্টোয় ছুটি থাকায় লোকজনের সংখ্যা আরও বাড়ে। এক্সপ্রেসওয়ে জুড়ে বাইকারদের গ্রুপ রোনাল্ডোকে গার্ড দিয়ে ডেল্টা হোটেল অবধি নিয়ে যায়। সেখানেও হোটেলের ভাইরে তাঁকে দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ে। রোনাল্ডো টিম বাস থেকে নেমে হোটেলের ঢোকার মুহূর্তে সে কী গর্জন। এরপরে একই ছবি দেখা যায় পর্তুগাল যখন কন্টিনেন্টাল পার্কে অনুশীলনের জন্য পৌঁছয়।
পর্তুগালের অনুশীলন মাঠেও শয় শয়ে লোক পর্তুগালের জার্সি পরে অপেক্ষায় ছিলেন। সিংহভাগের জার্সির পিছনেই লেখা সাত নম্বর, রোনাল্ডোর সাত নম্বর। তারা এমন ভিড় জমিয়েছিলেন এমন এক দিনে যেটি আবার কানাডার এবারের সবথেকে উষ্ণতম দিন ছিল। এমন দিনে ভিড় ঠেলে, ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা রোনাল্ডোর প্রতি ভালবাসারই পরিচয়বাহক। ১৯৫০ সালে এই শহরে প্রথম দফায় পর্তুগিজ অভিবাসীরা আসেন। তারপর থেকে বছর বছর আরও অনেকে এসেছেন। তাই এই শহরে অন্তত রোনাল্ডো ও পর্তুগালের প্রতি এই পাগলামো, এই আনন্দ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক।
কিন্তু ম্যাচের আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম যা বাড়তে বাড়তে প্রায় ৩০ হাজার কানাডিয়ান ডলারে পৌঁছেছে, তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই ম্যাচে হয়তো কতটা সাধারণ মানুষ মাঠে উপস্থিত থাকতে পারবেন সেই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সেই কারণেই হয়তো ম্যাচের আগে রোনাল্ডোদের দেখার এত বেশি ভিড় ছিল। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে রোনাল্ডোর জনপ্রিয়তা কিন্তু ফের একবার প্রমাণ হয়ে গেল।
