
দেশ জুড়ে ভেজাল খাদ্যপণ্যে বাড়বাড়ন্ত। সেই নিয়ে তৎপর একাধিক রাজ্যের সরকার। তারই মধ্যে ITC-র ‘আশীর্বাদ আটা’ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ আটকাল দিল্লি হাইকোর্ট। অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হল ITC-কে।

ITC লিমিটেডের ‘আশীর্বাদ এমপি চাক্কি আটা’কে নিয়ে বিতর্ক। প্যাকেটে ১০০ শতাংশ আটার রয়েছে বলে লেখা থাকে। কিন্তু ১০০ শতাংশ আটার দাবি সঠিক নয় বলে দাবি খাদ্য সুরক্ষা এবং গুণমান যাচাইকারী সংস্থা FSSAI-এর।

সেই নিয়ে ITC-র ফুড লাইসেন্স বাতিল করতে উদ্যোগী হয় FSSAI. কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা সেই পদক্ষেপ আটকাল। অন্তর্বর্তী সুরক্ষা রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে ITC-কে।

আদালত জানিয়েছে, ITC-র বিরুদ্ধে ওই মামলার শুনানি দিল্লিতে হবে কি না, তা দেখতে হবে আগে। যদিও দিল্লি হাইকোর্ট আদালত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না, প্রশ্ন তোলে FSSAI. তাদের যুক্তি ছিল, কলকাতা থেকে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। তাই দিল্লি হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের এক্তিয়ার নেই।

দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, ITC-র ফুড লাইসেন্স বাতিল নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি ঠিক হয়েছে।

ITC-র ‘100% Atta’,‘100% Madhya Pradesh Wheat’ এবং ‘0% Maida’-র প্যাকেটের লেখা দাবি দাবিদাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্যাকেটে ১০০ শতাংশ আটা বা ০ শতাংশ ময়দার দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে FSSAI. নোটিস দিয় বলা হয় ওই দাবি সম্বলিত লেখা এবং বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিতে।

২০২৫ সালের মে মাসে বিতর্কের সূত্রপাত। FSSAI-এর তরফে নির্দেশিকা জারি করে প্যাকেট এবং বিজ্ঞাপন থেকে ‘১০০ শতাংশ’ অংশটি তুলে নিতে বলা হয়। এখনও কেন সেটি সরানো হয়নি, তা নিয়ে এবছর ১০ অগাস্ট শো কজ নোটিস পাঠানো হয় ITC-কে।

জবাব দেওয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল ITC-কে। তিন দিন পর কলকাতা থেকে ইমপ্রুভমেন্ট নোটিস পৌঁছয়। ‘100% Atta’,‘100% Madhya Pradesh Wheat’ এবং ‘0% Maida’ লেখা নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব যাওয়া হয় সেবার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক কারণ দেখাতে না পারলে লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হবে বলে জানানো হয়।

যদিও ITC-র দাবি, শো কজ নোটিসের জবাব তৈরি করার আগেই ইমপ্রুভমেন্ট নোটিস এসে পৌঁছয় তাদের হাতে। ২০২৫ সালের নির্দেশিকাকেও আদালতে চ্যালেঞ্জ করে তারা। শুধুমাত্র নির্দেশিকা জারি করে এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা যায় না বলে দাবি করে।

ITC-র তরফে আরও দাবি করা হয় যে, মধ্যপ্রদেশের বাইরের আটা বা ময়দা রয়েছে বলে নির্দিষ্ট ভাবে অভিযোগ তোলেনি FSSAI. সেই নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই সংস্থাকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল আদালত।

শুধুমাত্র ITC-ই নয়, Fortune ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রেতা AWL Agri Business-কেও নোটিস ধরিয়েছে FSSAI. Fortune Soya Health Refined Soyabean Oil নিয়ে নোটিস ধরানো হয়েছে। প্যাকেট বা বোতলের উপর লেখা ‘100% Veg’ এবং ‘Cholesterol Free-For Healthy Lifestyle’ লেখা তুলে নিতে বলা হয় তাদের।
Published at : 26 Aug 2026 12:39 PM (IST)
