কলকাতা: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে ক্রমশ এক মঞ্চে আসছে বিরোধীরা। বুধবার দিল্লিতে INDI জোটের বৈঠক। জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে ইমপিচমেন্ট নোটিস আনার প্রস্তুতিও চলছে বলে সূত্রের খবর। অ-বিজেপি দলগুলোর কাছাকাছি আসার এই ইঙ্গিতকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ, জোটবদ্ধ, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই লড়াই করব।ইলেকশন প্রসেস মাস্ট ভি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, প্রথমত আমরা যেটা বলছি, জ্ঞানেশ কুমারকে দ্রুত পদত্য়াগ করতে হবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে তোলপাড় দেশ।আর এই আবহে কি ফের একবার কাছাকাছি হচ্ছে অ-বিজেপি দলগুলো? সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের দুই কক্ষেই ইমপিচমেন্টের নোটিস আনতে চলেছে বিরোধীরা। সেইসঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নিজেদের মনোভাবকে একসূত্রে বাঁধতে আগামী বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসতে চলেছে ‘ইন্ডি’ জোট। ওই বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে রণকৌশল সাজাতে দেশের প্রায় সব বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে সূত্রের খবর।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারির দাবিতে শুক্রবার দেশজুড়ে পথে নামে কংগ্রেস। যন্তরমন্তরে জল কামান, লখনউয়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ। গুয়াহাটিতে কমিশনের অফিসের সামনে বিক্ষোভ। জম্মুতে কংগ্রেসের প্রতিবাদ। দেরাদুনে ব্যারিকেডে উঠে স্লোগান। চণ্ডীগড়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, বিজেপির দালাল জ্ঞানেশ কুমার গো ব্যাক ব্যাক। বিজেপির হাতের পুতুল জ্ঞানেশ কুমার। বিজেপি গো ব্যাক, গো ব্যাক। শনিবার কলকাতায় ফের বিক্ষোভে নামে প্রদেশ কংগ্রেস।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে প্রায় একই সুরে সুর মিলিয়েছে ডান-বাম সব পক্ষ।শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, আমাদের দাবি হল দ্রুত জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানো উচিত। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় , জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করতে হবে, তাঁকে আইনের আওতায় আনতে হবে। শাস্তি দিতে হবে। অ-বিজেপি দলগুলোর বৈঠকে যে যোগ দেবেন, শনিবার হুগলির সভা থেকে আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,’কোন পার্টি, কী কালার আমার দেখার প্রয়োজন নেই। আমরা থাকব তাদের সাথে। মুম্বইতেও (আন্দোলন) শুরু হয়ে যাবে কাল-পরশু (রবি-সোমবার) থেকে। তারপর আবার ৩০ তারিখে (বুধবার) সম্ভবত আমাদের (ইন্ডি জোট) মিটিংটাও হচ্ছে। আমরা ঐক্য়বদ্ধভাবেই লড়াই করব।’ কিছুদিন আগেও যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা গেছিল ‘একলা চলো’র বার্তা, সেই তিনিই এখন সায় দিচ্ছেন ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে।
এমনকী রাজ্যে যারা ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর বিরোধী বলে পরিচিত, সেই সিপিএম ও কংগ্রেসের সঙ্গেও জাতীয় স্তরে একই ইস্যুতে সমন্বয়ের পথে চলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।সিপিএমের রাজ্য় সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে জোটের বৈঠক, মমতার ডাক সব নিয়ে। এদিকে বিরোধীদের এই একজোট হওয়ার প্রচেষ্টাকে বিঁধেছে বিজেপি। পাল্টা জবাব এসেছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর তরফেও।মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইন্ডি জোট একসঙ্গে হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, লড়াই হবে।’ জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুই কি এবার INDIA-র ছন্নছাড়া বিরোধী রাজনীতিকে ফের এক ছাতার তলায় আনবে? সময় গড়ানোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই জল্পনা।
CM Suvendu Adhikari : পিতৃপক্ষে প্য়ান্ডেল উদ্বোধন নয়, অষ্টমীতে মদ বিক্রি নয়, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
