নয়াদিল্লি: বিজেপি-র বিরুদ্ধে জোট গড়েছিল সমমনস্কগুলি। কিন্তু নেতৃত্বের প্রশ্নে ঐক্যের পরিবর্তে, ফাটল চওড়া হয়েছে ক্রমশ। SIR-এর প্রশ্নে যখন উত্তাল দেশ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা যখন আতসকাচের নীচে, এবার কি অন্য ছবি দেখা যাবে? বুধবার দিল্লিতে I.N.D.I.A জোটের বৈঠকের পর জোরাল হচ্ছে এই প্রশ্ন। বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে এই বৈঠকে আগাগোড়া মূল ভূমিকায় দেখা যায় কংগ্রেসকে। তাই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুলের নেতৃত্বে সকলে রাজি কি না, রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করতে সকলের সায় আছে কি না, সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। (Rahul Gandhi-Mamata Banerjee)
এদিন দিল্লিতে I.N.D.I.A শিবিরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিরোধী শিবিরের চেনা মুখেরা। তবে বৈঠকে একেবারে চালকের আসনে দেখা যায় কংগ্রেসকে। বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকেও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কংগ্রেসেরই পবন খেরা। জোটের অভিভাবক হিসেবে সবার আগে বিবৃতি দেন খড়গে। এর পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছু বলার অনুরোধ জানানো হয়। মমতার পর বক্তৃতা করেন রাহুল। আর তাতেই বিরোধী জোটের মুখ হিসেবে রাহুলকে নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। (I.N.D.I.A Bloc Meet)
সাংবাদিক বৈঠক থেকে বেরনোর সময় সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হয় মমতাকে। জানতে চাওয়া হয়, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কি রাহুল বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন? বিরোধী জোটের নেতৃত্বে রাহুলকে কি মেনে নিচ্ছেন তাঁরা? বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করবেন জানিয়ে প্রশ্নের উত্তর এড়ান মমতা। তবে তাঁর দলের সাংসদ সৌগত রায় এ নিয়ে কোনও লুকোছাপা করেননি। তাঁর সাফ বক্তব্য, “আমার মনে হয়, বিরোধী জোটে রাহুল গাঁধীর কংগ্রেসই সবচেয়ে বড় দল। মোদির গদি উল্টোলে রাহুলই যে আসবেন, তা স্বাভাবিক।”
তাহলে কি রাহুলের নেতৃত্ব মেনে নিচ্ছেন মমতা? এর নেপথ্যে একাধিক তত্ত্ব উঠে আসছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪, গত দুই লোকসভা নির্বাচনে নেতৃত্বের প্রশ্নে বিরোধী জোটের ফাটল প্রকট হয়ে উঠেছিল। খড়গেকে নিয়ে আপত্তি না থাকলেও, রাহুলের নেতৃত্বগুণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অনেকেই। আম আদমি পার্টি, মমতার তৃণমূলের মতো দলগুলির প্রথম পছন্দ ছিলেন খড়গে। তিনি অব্যাহতি চাইলে, মমতার সপক্ষেও প্রস্তাব জমা পড়ে। প্রকাশ্যে রাহুলের সমালোচনা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সোকসভার তৃতীয় বৃহত্তম দল তৃণমূলের অস্তিত্ব নিয়েই সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে ভরাডুবির পর দল ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। একদা ছায়াসঙ্গীরা পর্যন্ত চলে গিয়েছেন মমতাকে ছেড়ে। বিপদের সময় দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্ব যদিও মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাতেই কি রাহুলের প্রতি নরম হলেন মমতা? উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: বিমান হাইজ্যাক হয়েছে বলে SOS, নামানো হল যুদ্ধবিমানও, পরে জানা গেল, ককপিটে মারপিট করছিলেন পাইলটরা
দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যদিও বরাবরই সুসম্পর্ক মমতার। রাজ্যে ক্ষমতায় আসীন থাকাকালীনও বার বার সনিয়ার সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতোবিরোধ চাপা নেই। এদিন দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠক চলাকালীনও তাঁকে কটাক্ষ করেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, রাহুলের নেতৃত্ব কি তাহলে মেনে নিলেন মমতা? জবাবে অধীর বলেন, “দিদিকে কেন দিল্লি যেতে হচ্ছে, তার কারণ আপনারা সবাই জানেন। কারণ দিদি এখানে হেরেছে। তাই দিল্লি যেতেই হবে। কোথায় আর যাবে! রাহুল গাঁধীর নেতৃত্বে প্রথম যখন I.N.D.I.A জোটের সভা হয়, সেই সময় যদি সমর্থন করত, যদি বিরোধিতা না করত, তাহলে দেশের আজ এই পরিস্থিতি নাও হতে পারত। রাহুল গাঁধীকে নেতা মানতে কারও আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তব হল, রাহুল গাঁধীকে সামনে রেখেই ভাবনা চিন্তা করা উচিত সকলের।”
এদিনের বৈঠকে বার বার করে বিরোধী ঐক্যের পক্ষে সওয়াল করেছেন মমতা। রাহুল, খড়গের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিজেপি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। তবে ২০২৯ নিয়ে এখনই কথা বলতে নারাজ তিনি।
Fire in Duranta Express : মুম্বইয়ের CSMT ইয়ার্ডে Duronto Express-এ ‘আগুন আতঙ্ক’
