কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরে দাঁড়ালেন অভিষেকের কেস থেকেও। তৃণমূলের হারের জন্য সম্পূর্ণ ভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করলেন তিনি। বললেন, “হারের জন্য ওই তো সব থেকে বেশি দায়ী। লোকে কি বলছে? আমার মতো সৎ রাজনীতিবিদ কতজন আছে? ক্লেম করছি আমি। আমাকেও তো চোর চোর শুনতে হচ্ছে। ২০২২ সালেই তো আমি বলেছিলাম এর দ্বারা হবে না। দল থাকবে না। আমি একা বলেছিলাম। দিদি যদি মনে করে যে অভিষেক ছাড়া চলবে না, আমি খুব দুঃখিত যে আমাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু দিদি যদি মনে করে, অভিষেককে বাদ দিয়ে চলবে, তাহলে আমি আছি। পদ থেকে বাদ দিতে হবে। সাধারণ একজন সদস্যের মতো থাকবে। লিডার হিসাবে থাকবে না। কিন্তু দিদিকে একটা সিদ্ধান্ত থাকতে হবে।”
আরও পড়ুন: অভিষেক সম্মান দিতে না পারলে, আমরা ওঁর সঙ্গে থাকব না, ওঁর জন্য উকিল হইনি আমি: শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি তিনি, সেটা বেছে নিতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, বললেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিদির ভাইপো। কিন্তু আমরা ৪০ বছর আমরা দিদির জন্য কাজ করেছি। আমাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক নয়। কিন্তু দিদিকে আজ বুঝে নিতে হবে এই রাজনীতিতে অভিষেকের মতো রক্তের সম্পর্কের লোককে দরকার? নকি আমার মতো লোকেদের দরকার আছে।”
অভিষেকের মামলা কেন ছাড়লেন কল্যাণ? তিনি বললেন, “যা কাজ করো একজনের বুদ্ধি নিয়ে করো। চার জন আইনজীবীর বুদ্ধি নিয়ে হয় না। আর যাকে ইচ্ছা দাও ভাই, আমার কোনও আপত্তি নেই। আমাকে ডাস্টবিন হিসাবে ট্রিট করো না। আমাকে জানিয়ে দাও ভাই করব কি করব না। সারাদিন কেউ কিছু জানাল না। সকালে ছেলে বলল রাতে জানিয়েছে, আমি বাদ। অয়ন ভট্টাচার্য করবে।”
অভিষেকের মামলা নিয়ে এই সমস্যা তৈরি হওয়ার আগে কী হল? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে লড়ছি না। যে মামলায় সিআইডি ডেকেছে। শুক্রবার সারাদিন আমি বসে রইলাম, ধরল না মামলা। মেনশন করলাম। বুধবার আসতে বলল। মঙ্গলবার আমি দিল্লি থেকে তাড়াহুড়ো করে এলাম। এসে দেখি সার্চ হচ্ছে। আমি দিদির বাড়িতে গেলাম। বুধবার আবার মেনশন করলাম। জজ সাহেবকে বললাম মামলা নিতে। উনি বললেন, আজ হবে না, কাল সকালে মামলা নেব। আমি চেম্বারে এলাম, তারপর সাড়ে ১২ টার দিকে একজন আইনজীবী এল। এসে বলল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন একটা রিট পিটিশন ফাইল হয়েছে। এই সার্চ নিয়েই। আমি বললাম, সেটা তুমি আমাকে বলনি কেন ভাই? তাহলে আমি সকালে মেনশন করতাম না। একই সার্চ দুই জায়গায় তো সাবজেক্ট ম্যাটার হতে পারে না।”
Tmc News | তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ণ সিন্হার মুখেও এবার মোদি বন্দনা ! | ABP Ananda LIVE
