Lucknow coaching centre Fire : “বাবা, এখানে আগুন লেগেছে… আমাকে বাঁচাও”…. ডুকলে উঠেছিল মেয়ে, কোচিং সেন্টারে আগুনে শেষ ১৫ প্রাণ


লখনউ: “বাবা, এখানে আগুন লেগেছে… আমাকে বাঁচাও।” বাবার শোনা শেষ আর্তি। ২৩ বছরের সুখমনি সিংহের শেষ কথা…শেষ কান্না…শেষ আর্তি তাঁর বাবার কাছে । সোমবার দুপুরে বাবাকে ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই সব শেষ হয়ে যায়।উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় সোমবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সুখমনি সিংহও। আগুন লাগার পর বাড়ির ভিতরে আটকে পড়ে বহু মানুষ। প্রাণ বাঁচাতে কেউ কেউ প্রথম তলা থেকে লাফ দিয়েও পালানোর চেষ্টা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর প্রায় ২টা ১৫ মিনিট নাগাদ সুখমনি তাঁর বাবা প্রভজ্যোত সিংহকে ফোন করেন। ভয়ে কাঁপছিল গলা। ফোনে জানান, অফিসে আগুন লেগেছে এবং দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করার জন্য কাকুতি মিনতি শুরু করেন। সুখমনির ভাইয়ের কথায়, “ও বলেছিল, ‘পাপা, এখানে আগুন লেগেছে, আমাকে বাঁচাও।’ সেটাই ছিল আমাদের সঙ্গে ওর শেষ কথা।”

লখনউয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট ২৪ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই বাড়ির নিচে পশুপাখি সংক্রান্ত ব্যবসার কয়েকটি দোকান ছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে এবং দ্রুত তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, আর এক নিহত যুবক আদিত্য শ্রীবাস্তবের পরিবারও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ব্যবস্থাপনা নিয়ে। আদিত্যর মা দাবি করেছেন, দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলে হয়তো আরও অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হত। তিনি বলেন, “আরও একটু তৎপরতা দেখানো হলে বাচ্চাগুলোকে বাঁচানো যেত। ভিডিও করার বদলে যদি দ্রুত সাহায্য করা হতো, তাহলে হয়তো আমার ছেলেও আজ বেঁচে থাকত।”

আদিত্যর এক বন্ধু তাঁকে অত্যন্ত মেধাবী এবং সম্ভাবনাময় যুবক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “গত সপ্তাহেই ওর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল। এত ভালো মানুষদের ঈশ্বর এত তাড়াতাড়ি কেন ডেকে নেন?” এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে একাধিক পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর আগে প্রিয়জনদের কাছে করা শেষ ফোন কলগুলিই এখন স্মৃতি মাত্র।                     

 

                        



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *