কলকাতা : একুশে জুলাইয়ের আগের রাতে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর সভাস্থলে তখন প্রস্তুতি তুঙ্গে। সেই সময়ই সভাস্থলে হামলার অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভার জায়গায় ব্যানার ফেস্টুন ইত্যাদি ছেঁড়ার অভিযোগ পেয়েই সেখানে ছুটে আসেন তিনি। ক্যামেরার সামনে এমনটাই দাবি করেছেন তৃণমূল-নেত্রী। এরপর রাতভর বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনেই বসে থাকেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
এখান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সোমবার রাতে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর সভাস্থলের কাছে ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়া হয়, মাইকের তার খুলে দেওয়া হয় তিনি বাইক ভাঙচুরের অভিযোগও করেন। ‘বিজেপির দুষ্কৃতীরা সভাস্থলে ঢুকে পড়ে। সব পোস্টার ছিঁড়েছে দেখুন, সাউন্ড সিস্টেমের তার খুলে দিয়েছে রাতে দায়িত্বে থাকা ছাত্র-যুব কর্মীদের মারধর করেছে, হেনস্থা করেছে ছাত্রীদের। ‘ তিনি পাশাপাশি থাকা নেতা-কর্মীদের বলেন,’ রাতেই অ্যাপ্লিকেশন মুভ করো। এই কেসটায় আমিও থাকতে চাই, তুমিও থাকবে। তুমিই করবে কেসটা। আর আমি দেখতে চাই বিজেপির কটা লুম্পেন আছে আমাকে হাইকোর্টে ঢুকতে না দেয়। আজকে সারারাত জেগে আমাদের পাহারা দিতে হচ্ছে এই অপদার্থ পুলিশের জন্য, যারা মিনিমাম সম্মানটুকু দিতে পারে না।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, ‘IC গিয়ে শহিদ পরিবারের বাড়ি ঘেরাও করে বসে আছে। SP গিয়ে বিধায়কদের বাড়ি ঘেরাও করে বসে আছে। কেউ কেউ তো ভয়ে মুখ বুজে বসে আছে। এখন রইলাম। সামলাতে পারলে সামলান। পাঠান কত গুন্ডা আছে পাঠান। ‘
খবর পেয়ে রাতেই সেখানে চলে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, ডেরেক ও ব্রায়েনরা। সকাল ৭ টা পর্যন্ত সভাস্থলেই বসা থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়।
এবার কার্যত এক একুশে জুলাই -এ শোকপালনের দাবিদার চার পক্ষ। মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির সামনে কর্মসূচি পালন করছে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবির। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ক্যাথিড্রাল রোডে শহিদ সমাবেশের আয়োজন করেছে কালীঘাট-তৃণমূল। শহিদ মিনারে এবার বড় করে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি করছে কংগ্রেসও। অন্যদিকে, দিল্লিতে ‘শহিদ তর্পণ’ করছে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শহিদ দিবস পালন করবেন NCPI সাংসদরা।
কিন্তু শহিদ পরিবার কোথায় যাবে ? একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন না। জানিয়ে দিয়েছেন একুশে জুলাইয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার। স্ত্রী মিতালি রায় ও ছেলে রাজীব রায়, দুজনেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব মণীশ গুপ্ত ও মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে FIR করবেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
