নয়াদিল্লি: খোদার উপর খোদকারি বললেও কম হয়। পুরুষ ইঁদুর থেকে স্ত্রী ইঁদুরের ‘ক্লোন’ বানিয়ে ফেললেন বিজ্ঞানীরা। বিলুপ্ত হতে চলা প্রাণীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে অপপ্রয়োগের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। তবে এমনটা হতে পারে জেনে হতবাক বহু মানুষ। (Female Clones From Male Mice)
জীবদেহের কোনও কোষ, DNA-র অংশ বিশেষ অথবা গোটা প্রাণী শরীরের হুবহু জিনগত অনুলিপি তৈরিকেই ‘ক্লোনিং’ বলা হয়। এতে মূল DNA-র একেবারে অনুরূপ হয় ‘ক্লোনিং’য়ের মাধ্যমে তৈরি অনুলিপিটি। মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রকৃতি নিজ পদ্ধতিতে এই ‘ক্লোনিং’ করতে সক্ষম। আইডেন্টিক্যাল টুইন, অর্থাৎ হুবহু এক দেখতে যমজ ভাইবোনের DNA পরস্পরের অনুরূপ হয়। (Mice Experiment)
আরও পড়ুন: দিকে দিকে বিজেপি-র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ফাটল মাথাও, ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বলল, ‘এরা কি সেই সুযোগসন্ধানী…?’
ল্যাবরেটরিতে জিন ক্লোনিং করতে পারেন বিজ্ঞানীরাও। তবে কোনও পুরুষ প্রাণীকে ‘ক্লোন’ করে স্ত্রী শরীর তৈরির নজির এই প্রথম। জাপানের বিজ্ঞানীরা এই অসাধ্যসাধন করেছেন। ইউনিভার্সিটি অফ ইয়ামানাশি এবং RIKEN BioResource Research Center-এর বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে পুরুষ ইঁদুর ক্লোন করে স্ত্রী ইঁদুর বানিয়ে ফেলেছেন। সেই ইঁদুর আবার প্রজননেও সক্ষম।
পুরুষ ইঁদুরকে ক্লোন করে প্রজননে সক্ষম স্ত্রী ইঁদুর বানালেন কী করে? জাপানের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলেছে IFL Science. বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, XY ক্রোমোজ়োম যুক্ত পুরুষ ইঁদুর নিয়ে CRISPR Y-CUT জিন এডিটিং পদ্ধতিতে Y ক্রোমোজোম মুছে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘Dual-Sex Cloning’. এর পর ওই ভ্রূণগুলিকে সারোগেট ইঁদুরের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সারোগেট ইঁদুর যে স্ত্রী ছানার জন্ম দেয়, যাদের শরীরে XO সেক্স ক্রোমোজম রয়েছে। অর্থাৎ Y ক্রোমোজম নেই তাদের শরীরে।
আরও পড়ুন: মাস্ক পরার দিন ফিরল, সোয়াই ফ্লু অ্যালার্ট জারি দিল্লিতে, কাদের ঝুঁকি বেশি? অ্যান্টিবায়োটিক কি খাবেন?
গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানী শোগো মাতোবা বলেন, “পুরুষ সোমাটিক কোষ থেকে প্রথম যখন স্ত্রী ক্লোনটির জন্ম হয়, তা অত্যন্ত উত্তেজনার মুহূর্ত ছিল। তত্ত্বগত ভাবে আমরা জানতাম Y ক্রোমোজোম মুছে দিলেই IVF-এ তৈরি ভ্রূণ থেকে XO স্ত্রী ছানা তৈরি সম্ভব। তবে পুরুষ ডোনার থেকে স্ত্রী ইঁদুরের জন্ম হওয়া চমকপ্রদ ঘটনা।”
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, এর আগে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলাকালীন দুর্ঘটনাবশত Y ক্রোমোজোম মুছে গিয়েছিল। তাতে পুরুষ ইঁদুর থেকে স্ত্রী ক্লোন জন্মেছিল। তবে এই প্রথম পরিকল্পনা মাফিক পুরুষ ক্লোন থেকে স্ত্রী ইঁদুর বানালেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানী তেরুহিকো ওয়াকায়ামা গবেষণায় যুক্ত না হলেও, তিনি জানিয়েছেন, ইঁদুর ছাড়া অন্য কোনও প্রাণীর শরীরেও এই পরীক্ষা সফল হলে পরিস্থিতি একেবারে বদলে যাবে। যে সমস্ত প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার মুখে, অস্তিত্বরক্ষা করা সম্ভব হবে তাদের। বিশেষ করে যে ক্ষেত্রে পুরুষ প্রাণীরাই অবশিষ্ট রয়েছে, তাদের থেকে স্ত্রী লিঙ্গের প্রাণীর সৃষ্টি সম্ভব। পুরুষের কোষের নমুনা সংরক্ষণ করে স্ত্রী ভ্রূণ ফিরিয়ে আনার রাস্তা আরও প্রশস্ত হল। এই মুহূর্তে কোনও পুরুষ নর্দার্ন হোয়াইট রাইনো বেঁচে নেই। তাদের ক্ষেত্রে স্ত্রী রাইনো তৈরি করা যায় কি না, শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে সেই কাজে হাত দেওয়ার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
