NASA-ISRO Lunar Mission: চাঁদে এবার মানুষের ঠিকানা, ঘাঁটি নির্মাণে ISRO-কে আহ্বান NASA-র, কী করবে চিন?


নয়াদিল্লি: চাঁদের মাটিতে ঘাঁটি গড়তে আমন্ত্রণ পেল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO. আমন্ত্রণ জানাল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA. চাঁদে ঘাঁটি গড়তে তারা যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তাতে শামিল হতে বলা হল ISRO-কে। (US Moon Base Program)

সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে ভারত-আমেরিকা Civil Space Joint Working Group-এর নবম বৈঠক হয়। আর তার পরই NASA-র তরফে আনুষ্ঠানি ভাবে ISRO-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মঙ্গলবার সরকারি ভাবে বিষয়টি সামনে আনল ভারতে আমেরিকার দূতাবাস এবং কনস্যুলেট। (NASA-ISRO Lunar Mission)

এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ISRO-কে আমন্ত্রণের কথা জানায় ভারতে আমেরিকার দূতাবাস এবং কনস্যুলেট। লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চাঁদে ঘাঁটি গড়ার প্রকল্পে ISRO-কে আমন্ত্রণ জানিয়েছে NASA. Artemis চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। চুক্তি মেনে বিজ্ঞান সম্মত তথ্যসমূহ ভাগ করে নিতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ’।

চাঁদের বুকে প্রথম মনুষ্যনির্মিত ঘাঁটি গড়তে চলেছে NASA. এই প্রথম পৃথিবীর বাইরে কোথাও ঘাঁটি গড়ে তুলছে মানুষ। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে গড়ে তোলা হবে ওই ঘাঁটি। তিনটি পর্যায়ে ওই কাজ সম্পন্ন হবে। এবছর ২৪ মার্চই ‘Ignition’ অনুষ্ঠানে এর ঘোষণা হয়েছিল। মহাকাশে আমেরিকার নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে জাতীয় মহাকাশ নীতি এনেছেন, তার আওতায় এই পরিকল্পনা বলে জানানো হয় সেই সময়।

Moon Base Program আসলে কী? 

  • প্রথমে রোবট নামিয়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরুকে ঘুরে দেখা, সেখানে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রচনা।
  • ভবিষ্যতে যাতে মানুষ সেখানে পদার্পণ করতে পারেন, তার প্রস্তুতি নেওয়া। সৌরজগতের আরও গভীরে যাতে মানুষ পাঠানো যায়, সেই সংক্রান্ত সহযোগিতা প্রদান।
  • চাঁদের মাটিতে এমন পরিকাঠামো গড়ে তোলা, যাতে দীর্ঘ সময় সেখানে থেকে গবেষণা চালাতে পারেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
  • চাঁদের মাটিতে ঘাঁটি গড়া গেলে আগামী দিনে মঙ্গল অভিযানের রাস্তাও প্রশস্ত হবে। মানুষ পাঠানো হবে মঙ্গলগ্রহেও। 

আরও পড়ুন: চাঁদের বুকে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটাতে চেয়েছিল আমেরিকা, লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভয় দেখানো, Project A119 বাতিল হল কেন?

ভারত এবং আমেরিকার যুগলবন্দি

  • শুধুমাত্র চাঁদই নয়, আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলাই লক্ষ্য। 
  • ইতিমধ্যেই NISAR এবং AXIOM অভিযানে যৌথ সাফল্য এসেছে। মহাকাশ অভিযানে পরস্পরের হাত ধরে আরও এগোতে চাইছে আমেরিকা এবং ভারত।

ভারত এবং আমেরিকার এই যৌথ উদ্যোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের আয়ু ফুরিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে চাঁদে ঘাঁটি গড়ে তোলার তাগিদ অনুভূত হচ্ছে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সেই কাজ সহজ হবে।
  • আমেরিকা জানিয়েছে, দীর্ঘ ৬০ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তবে এবার শুধু ঘুরে দেখে চলে আসা নয়, চাঁদের মাটিতে থেকে গবেষণা চালানো হবে। সেই কাজে ভারতকে পাশে চায় আমেরিকা।

মহাকাশ গবেষণায় এই মুহূর্তে আমেরিকাকে কার্যত টেক্কা দিচ্ছে চিন। ভারতের সঙ্গে তাদের টানাপোড়েনও সর্বজনবিদিত। এমতাবস্থায় মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে উঠলে, মহাকাশে ড্রাগনের আধিপত্য রোখা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

আরও পড়ুন: নিউক্লিয়ার মিসাইল ছুড়ে গ্রহাণু গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভাবনা, পৃথিবীকে রক্ষা করতে এছাড়া উপায় নেই, বলছেন বিজ্ঞানীরা





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *