Onion Price: চিনির পর এবার পেঁয়াজের দামে আগুন! কত দামে বিকোচ্ছে? বাজারে বড় ধাক্কা!


কলকাতা: দুর্গাপুজো আসতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই ফের চাপে মধ্যবিত্তের রান্নাঘর। হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সবজির দাম বাড়ায় ইতিমধ্যেই চিন্তা বেড়েছে সাধারণ মানুষের। পুজোর বাজারে কেনাকাটার চাপের মধ্যেই রান্নাঘরের খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২২ আগস্ট দেশের খুচরো বাজারে পেঁয়াজের গড় দাম প্রায় ৪২ টাকা প্রতি কেজি হয়েছে। এক মাস আগের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। এক বছরের হিসাব করলে বৃদ্ধির হার প্রায় ৪৫ শতাংশ।

কোথাও দাম ৬০ টাকার গণ্ডি পার

দেশের সব জায়গায় অবশ্য একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না। বেশ কিছু বড় শহরে দাম জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

দিল্লিতে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৬৫ টাকা প্রতি কেজি, আর চেন্নাইয়ে প্রায় ৫৮ টাকা প্রতি কেজি পর্যন্ত পৌঁছেছে। কেরল এবং অসমের কিছু এলাকাতেও তুলনামূলক বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

ফলে পুজোর আগে এই দামবৃদ্ধি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ পেঁয়াজ এমন একটি খাদ্যপণ্য, যার দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ পরিবারের মাসিক বাজার খরচে।

কেন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম?

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পিছনে মূল কারণ হিসেবে সরবরাহের চাপ এবং মহারাষ্ট্রে খরিফ পেঁয়াজের উৎপাদন কমার আশঙ্কা উঠে এসেছে।

বাজার সূত্রের দাবি, মহারাষ্ট্রে খরিফ পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমতে পারে। মহারাষ্ট্র দেশের অন্যতম বড় পেঁয়াজ উৎপাদক রাজ্য হওয়ায় সেখানে উৎপাদন কমলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে সরবরাহের উপর তার প্রভাব পড়ে।

তবে ২০২৫-২৬ কৃষিবর্ষে দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদন প্রায় ৩০৭ লক্ষ টন হতে পারে বলে কৃষি মন্ত্রকের দ্বিতীয় অগ্রিম হিসাবের কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক উৎপাদন নিয়ে বড় ঘাটতির আশঙ্কা না থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট বাজারে সরবরাহের সমস্যাই দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দাম কমাতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে এবার সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র।

২৪ আগস্ট থেকেই ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ চালু করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজ নিয়ে বিশেষ ট্রেন যাবে দিল্লি, চেন্নাই, কোচি এবং গুয়াহাটির মতো বড় শহরে। যে সমস্ত জায়গায় পেঁয়াজের দাম জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি, সেখানে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নাসিক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজ সরবরাহ কেন্দ্র। তাই সেখান থেকে রেলপথে সরাসরি বেশি দামের বাজারগুলিতে পেঁয়াজ পাঠালে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্র। শুধু বিশেষ ট্রেন নয়, সরকারের বাফার মজুত থেকেও পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে।

সরকার সাধারণত পেঁয়াজের মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাফার মজুত রাখে। দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সেই মজুতের একটি অংশ ধাপে ধাপে বাজারে ছেড়ে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। সরকারি নীতিতেও অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বাফার মজুত ধাপে ধাপে ছাড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

চলতি অর্থবর্ষে নাফেড এবং ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজিউমার্স ফেডারেশন বা NCCF প্রায় ১.২ লক্ষ টন পেঁয়াজ বাফার মজুতের জন্য সংগ্রহ করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুধু পেঁয়াজ নয়, বাড়ছে চিনির দামও

রান্নাঘরের উদ্বেগ শুধু পেঁয়াজেই থেমে নেই। একই সময়ে চিনির দামও বাড়ছে।

২২ আগস্টের হিসাবে খুচরো বাজারে চিনির গড় দাম ছিল প্রায় ৬২.৫০ টাকা প্রতি কেজি। এক বছর আগের তুলনায় এই দাম প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি এবং এক মাসের তুলনায় প্রায় ২৮.৫ শতাংশ বেশি। দিল্লিতে চিনির দাম প্রায় ৬৫ টাকা এবং মুম্বইয়ে প্রায় ৬৯ টাকা প্রতি কেজি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে পুজোর আগে রান্নার প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম একসঙ্গে বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্তের মাসিক বাজার খরচ নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।

পুজোর আগে দাম কমবে? এখন বড় প্রশ্ন, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে পেঁয়াজের দাম কতটা কমবে?

নাসিক থেকে বেশি পেঁয়াজ সরবরাহ করা এবং বাফার মজুত বাজারে ছাড়ার ফলে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যে শহরগুলিতে দাম জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি, সেখানে এই পদক্ষেপ দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বাজারে সরবরাহ, উৎপাদন এবং চাহিদার পরিস্থিতির উপরই শেষ পর্যন্ত দাম নির্ভর করবে।

পুজোর আগে তাই সাধারণ মানুষের নজর এখন বাজারদরের দিকে। পেঁয়াজের ঝাঁজে যে মধ্যবিত্তের চোখে জল আসার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে. 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *