Rudranil Ghosh: আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন চন্দন সেন, “যে রং ছিল, সেই রংই হবে”, অ্যাকাডেমির রং বদল নিয়ে ‘কার্যত’ ঘোষণা করলেন রুদ্রনীল ঘোষ!


কলকাতা: গতকাল সাদা রং করার পর আজ অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের টিকিট কাউন্টারের রং ফের বদলে দেওয়া হল। শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ দাঁড়িয়ে থেকে রং করান। এমনকি নিজের হাতেও সাদার উপর গেরুয়া রং করেন। উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথমবারের জন্য রং বদল করা হয়েছিল অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের টিকিট কাউন্টারের। সেই সময় টেরাকোটা বা লালচে রংয়ের পরিবর্তে গেরুয়া রং করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন নাট্যকর্মীরাও।

আরও পড়ুন: “ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ অন্তিম পর্যায়ে”, কবে পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? বৈঠক থেকে স্পষ্ট জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

গতকাল সেই টিকিট কাউন্টারের রং বদলে সাদা করে দেওয়া হয়। অভিনেতা চন্দন সেন গতকালই বলেছিলেন, “ওরা বলেছেও, করলে পরদিন আবার গেরুয়া করে দেবে।” তারপর আজ ১২ অগস্ট সেটাই ঘটল। বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বিজেপি নেতাকর্মীদের নিয়ে গিয়ে ফের গেরুয়া রং করে দেন। তিনি বলেন, “এই যে টিকিট কাউন্টারের রং স্পষ্ট গেরুয়া এবং চকোলেট। বামেরা স্পষ্ট ঠিক করেছিল কলকে পেতে বিভিন্ন জায়গায় যাবে। আর এই অ্যাকাডেমি চত্বরটাকে এই যে একমাস আগেও লাল ঝাণ্ডা দিয়ে ভরিয়ে রেখেছিল। এখানের ওয়ার্কিং কমিটি ট্রাস্টি বোর্ডকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে। দুর্নীতি চলছে, তা নিয়ে বামেদের কোনও অসুবিধা নেই। তাঁরা এখানে এসেছেন পরিষ্কার সিটুর ইউনিয়নকে বড় করতে। ৪ টে রুম তার দখল করে রেখে দিয়েছেন। যে রং ছিল, সেই রংই হবে।” একই সঙ্গে তিনি নিশানা করেন বিকাশ ভট্টাচার্যকেও।

বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ আরও বলেন, “জেহাদি শক্তিরা যে গেরুয়াকে অপছন্দ করে, সেই গেরুয়াকে আপনার আপত্তি? যে লুঠতরাজ এখানে চলছে, যেভাবে ওয়ার্কিং কমিটির সর্বনাশ করে দিয়েছে। এখানে মিউজিয়াম দি শুরু করে থিয়েটার হল বা এগজিবিশন হলের যে সংস্কার হয়নি, তা নিয়ে নাট্যপ্রেমীদের তো একবারও মন কেন্দ্র ওঠেনি।”

আরও পড়ুন: নিজে হাতে রং করলেন রুদ্রনীল, সাদা থেকে ফের গেরুয়া হল অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের টিকিট কাউন্টার

গতকাল যখন সাদা রং করা হয়, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “হেরিটেজ প্রতিষ্ঠানে গেরুয়া রং করে দিলাম…এর সঙ্গে শিল্প, সংস্কৃতি, সভ্যতার কোনও সম্পর্ক নেই। নাট্য আন্দোলনের প্রবীণরা শমীকবাবুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ১৫ দিনের মধ্যে পুরনো রং ফিরিয়ে দেবেন বলেছিলেন উনি। ১৫ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও দেননি। আমার মিটিং করে ঘোষণা করেছিলাম যে, রং ফিরিয়ে না দিলে আমরা করব। ওঁরা দেননি, তাই নাট্যকর্মীদের  সঙ্গে মিলে পুরনো রং ফিরিয়ে দিলাম। ঐতিহ্য, এই বাড়ির সঙ্গে সাযুজ্য থাকা দরকার। দুম করে গেরুয়া করে দিলাম! অসভ্যতা।”

গতকাল অভিনেতা চন্দন সেনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “টিকিট কাউন্টারের টেরাকোটা রং ছিল। বহুরূপীর জন্য কাউন্টার করা হয়েছিল। সেটার সঙ্গে এমন গুন্ডামি করার মানে নেই। অবাঞ্ছিত ব্যাপার। এমন অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটালে মানুষ তো প্রতিক্রিয়া জানাবেই! সেই প্রতিক্রিয়াই জানানো হচ্ছে। সাদাই থাকুক। ওরা বলেছেও, করলে পরদিন আবার গেরুয়া করে দেবে। চ্যালেঞ্জ করে বলেছে, পাল্টাবে না, কী করবেন? যেভাবে বলা হয়েছে, আমরা যেটা পারি করলাম।”

উল্লেখ্য, পালা বদলের পর যখন রং বদল হয়েছিল, সেই সময় রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “যারা করছে অন্যায় করেচে, ভুল করেছে। রং বদলের রাজনীতি বিজেপির লক্ষ্য নয়। যেখানে সেখানে রং করে দেওয়া, এটা বিজেপির অ্যাজেন্ডার মধ্যে নেই। আপনারা চিহ্নিত করুন, ব্যবস্থা নেব।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *