নিউ ইয়র্ক: স্পেনের ফুটবল মানেই একটা আলাদা বৈচিত্র্য থাকবে। দেখা যাবে গোটা মাঠ জুড়ে শিল্প। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছে এবছরের বিশ্বকাপের স্প্যানিশ ফুটবলে। ২০১০ সালে শেষবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল স্পেন। ইকের ক্যাসিয়াসের সেই দলটিই নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে খেতাব জিতেছিল। ১৬ বছর পর ফের একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন। আজ আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে খেতাবি লড়াইয়ে খেলতে নামবে তারা। লা ফুয়েন্তের কোচিংয়ে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে শৈল্পিক ফুটবলটি খেলেছে স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। কিলিয়ান এমবাপের মত তারকাকে জোনাল মার্কিং করে তাঁর খেলাটাই আটকে দিয়েছিল কুকুরেয়া। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ শুরুর আগে ও বিশ্বকাপ শুরুর পরে মিলিয়ে মোট ৩৭ ম্য়াচ ধরে অপরাজিত স্পেন। ফাইনালে সামনে লিওনেল মেসি নামক এক ‘বিস্ময়’। স্পেন কি পারবে? তার আগে দেখে নেওয়া যাক কীভাবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ইউরোপের এই শক্তিধর ফুটবল খেলা দেশটি।
গ্রুপ পর্বে কিছুটা ধীরগতির শুরু করলেও সহজেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে পৌঁছায় স্পেন। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম গ্রুপ পর্বের ম্য়াচটিতেই আটকে যেতে হয়েছিল লামিনে ইয়ামালদের। ০-০ খেলা ড্র হয়েছিল। ব্যস, এরপরে আর কোনও ম্য়াচে ড্র করেনি তারা। সব ম্য়াচেই জিতেছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ৪-০ বিরাট ব্যবধানে জয় আসে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্য়াচে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জিতে গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরের রাউন্ডে পৌঁছ যায় লা ফুয়েন্তের দল।
নক আউট পর্বে স্পেনের প্রথম ম্য়াচ ছিল অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে। রাউন্ড অফ ৩২-তে প্রতিপক্ষকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় পেদ্রিরা। এরপর রাউন্ড অফ ৩২-তে পর্তুগালের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল দলটি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মত মহাতারকাকে গোটা ম্য়াচে নিষ্প্রভ করে খেলায় ১-০ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় স্পেন। সুপার সাব হিসেবে নেমে জয়সূচক গোলটি করেন মিকেল মেরিনো।
কোয়ার্টার ফাইনাল প্রতিপক্ষ ছিল বেলজিয়াম। লুকাক, ডি ব্রুইনদের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। এই ম্যাচেও শেষ মুহূর্তে স্পেনের ত্রাণকর্তা হিসেবে জয়সূচক গোলটি করেন সেই মিকেল মেরিনাে।
শেষ চারের দ্বৈরথে সবচেয়ে শক্তিশালী দলটির বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল স্পেন। সবাই ভেবেছিল খেলায় কিলিয়ান এমবাপেরা সহজেই জয় ছিনিয়ে নেবে। কিন্তু স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল দেওয়ালের মতো শক্ত। কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলেদের আটকে রেখে প্রথমার্ধে মিকেল ওয়ারজাবালের পেনাল্টি ও দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরোর দুর্দান্ত গোলে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন।
