‘কী ধরনের সংস্কৃতি আমরা তৈরি করছি ?’ ভোটের আগে দান-খয়রাতির কড়া সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের


নয়াদিল্লি : ভোটের আগে দান-খয়রাতি সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। ‘দেশের আর্থিক উন্নতির পক্ষে অন্তরায় এমন নীতির পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। দেশের বেশির ভাগ রাজ্য, রাজস্ব ঘাটতিতে ভুগছে। তাও রাজস্ব ঘাটতিতে ভোগা এই সব রাজ্য দান-খয়রাতি দিয়ে চলেছে। দেশে কী ধরনের সংস্কৃতি আমরা চালাচ্ছি ?’ এই প্রশ্ন তুলে দিল শীর্ষ আদালত। আদালত বলেছে, টাকা-পয়সা থাকলে হাসপাতাল, স্কুল, কলেজের উন্নতিতে জোর দিন। ভোটের আগে ফ্রি-তে জিনিসপত্র না বিলিয়ে, রাজ্যগুলি নিজেদের নীতির সমীক্ষা করুক। রোজগারের সুযোগ তৈরি করা রাজ্যের কর্তব্য। বিনামূল্যে খাবার, ফ্রি-তে সাইকেল, বিদ্যুৎ দিলে, উন্নয়নের জন্য টাকাপয়সা বাঁচবে কোথায় ?’ মন্তব্য প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল M পাঞ্চোলির বেঞ্চের। তামিলনাড়ু সরকারের দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে, যেখানে ২০২৪ সালের বিদ্যুৎ সংশোধনী বিধির ২৩ নম্বর বিধি বাতিল করার দাবি করা হয়েছিল। এদিন তারই শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। ভোটের আগে আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে গ্রাহকদের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তামিলনাড়ু সরকারের একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে এই ইস্যু। একেবারে ‘শেষ মুহূর্তে’ এসে কেন এই প্রকল্পের সিদ্ধান্ত তা নিয়ে রাজ্য সরকারের ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।

আদালত সতর্ক করে বলেছে, ‘বিনামূল্যে’ বিতরণ, বিশেষ করে যারা পরিষেবার অর্থ প্রদান করতে পারবে, এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করেছে যা কাজ না করে পুরস্কৃত করার মতো। আদালতে পর্যবেক্ষণ, “যদি সকাল থেকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া শুরু হয়… তারপর একটা বিনামূল্যে সাইকেল… তারপর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ… আর এখন আমরা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমরা সরাসরি মানুষের অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা স্থানান্তর করতে পারব… কল্পনা করুন তো। যারা অর্থ দিতে পারে না তাদের জন্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা বোধগম্য হয়। কিন্তু যারা সামর্থ্য রাখে এবং যারা পারে না তাদের মধ্যে পার্থক্য না করে যদি আপনি বিতরণ করেন…।” আদালত আরও বলেন, “এমন কিছু শিশু আছে যারা শিক্ষার খরচ বহন করতে পারে না। রাজ্যকে অবশ্যই তার জোগান দিতে হবে… এটা রাজ্যের কর্তব্য। কিন্তু যারা ধনী (কিন্তু তবুও) তাদের পকেটে যে কোনও ধরনের বিনামূল্যের জিনিসপত্র প্রথমে আসে। রাজ্যগুলির কি এই নীতি কাঠামো পুনর্বিবেচনা করার সময় হয়নি?”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *