France Football Team: জমাট রক্ষণ আর ভয়ঙ্কর আক্রমণের যুগলবন্দি, বিশ্বকাপের ফেভারিট ফ্রান্সের কি আদৌ কোনও দুর্বলতা আছে?


প্যারিস: বিগত সাত বিশ্বকাপের অর্ধেকের বেশি, চারটির ফাইনালে পৌঁছেছে ফরাসি দল (France football Team)। ধারে, ভারে, খাতায় কলমে তারা যে এবারের বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ফাইনালেও কেন উঠতে পারবে, সেটা খুঁজে বের করাটাই বরং বেশি কঠিন। নিঃসন্দেহেই দিদিয়ের দেশঁর (Didier Deschamps) দল ফের একবার হট ফেভারিট হিসাবে এবারের বিশ্বকাপে মাঠে নামতে চলেছে। 

চলতি বিশ্বকাপ শেষেই দেশঁ ফ্রান্সের কোচ হিসাবে দেশঁ এক সুবর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাবেন। ১৪ বছর দলের ডাগ আউট থেকে ফ্রান্স দলকে বিশ্বের সেরা দলগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই মাত্র তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে দেশঁ খেলোয়াড় এবং কোচ, উভয় ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জিতেছেন। এবার তাঁর সামনে সুযোগ রয়েছে ভিটোরিও পোজ়োর পর মাত্র দ্বিতীয় কোচ হিসাবে একাধিক বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ার। 

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বের ফলাফল দেখে কিন্তু দেশঁর পক্ষে এই ইতিহাস গড়া একেবারেই অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। ফরাসি দল যোগ্যতা অর্জন পর্বে কেবল আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধেই পয়েন্ট নষ্ট করেছিল। উপরন্তু, দলের তারকা ফরোয়ার্ডরা বরাবর চর্চায় থাকলেও, গোটা যোগ্যতা অর্জন পর্বে মাত্র চার গোল হজম করে ফ্রান্স প্রমাণ করে দিয়েছে যে তাঁরা এই বিশ্বকাপে সম্ভবত সবথেকে ভারসাম্যযুক্ত দল।

এমন এক দলের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া যতটা কঠিন, তার ঠিক কোন পক্ষটা সবথেকে শক্তিশালী, সেটা বিচার করাটা ততোধিক কষ্টকর। তাও আমরা আজকের প্রতিবেদনে সেই কাজটাই করার চেষ্টা করব। 

শক্তি

ফ্রান্স দলে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের (Kylian Mbappe) পাশাপাশি ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে তো আছেনই, আছেন এ মরশুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২৬টি অ্যাসিস্ট প্রদান করে পরবর্তী ব্যালন ডি’অর আলোচনায় নিজের জায়গা করে নেওয়া মাইকেল ওলিজ়ের মতো বিশ্ববন্দিত ফুটবলার। এখানেই শেষ নয়। এই দলে দেজ়িয়ে দুয়ে, ব্র্যাডলি বার্কোলার মতো তরুণ অথচ অভিজ্ঞ, বিশ্বকাঁপানো দুই ফুটবলারও রয়েছে। ওলিজ়ে, দেম্বেলে, এমবাপে ও দুয়ের মার্কেট ভ্যালুই গোটা ব্রাজিলিয়ান দলের মার্কেট ভ্যালুর থেকে বেশি, যা এই চার ফরোয়ার্ডের প্রতিভারই পরিচয় দেয়। বিশ্বের যে কোনও দলের যে কোনও সময়ের, যত বজ্রকঠিন রক্ষণভাগই হোক না কেন, ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ড লাইন তাঁদের বেগ দিতে বাধ্য। 

এছাড়া সালিবা, উপমেকানো, কোনাটেদের মতো দীর্ঘকায় অথচ দ্রুত গতির ডিফেন্ডার দলের রক্ষণভাগকেও মজবুতি প্রদাণ করে। এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলোয়াড় ও কোচ, উভয় হিসাবে খেতাব জয়ের সাফল্যমন্ত্র জানা দেশঁর ডাগ আউটে উপস্থিতিটাও ফ্রান্স দলকে বেশ শক্তিশালী বানায়।

আরও পড়ুন:- নেমারের শেষ সুযোগ! ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে মরিয়া ব্রাজিল, সেলেসাওয়ের শক্তি কী? দুর্বলতা কোথায়? 

দুর্বলতা

আপাত অর্থে ফ্রান্স দলের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া কঠিন। অতি সূক্ষ্ম বিচারে গেলে বলতে হয় দলের বাঁ-দিকে ফুলব্যাকদের তিনজনের মধ্যেই রক্ষণ ও আক্রমণের ভারসাম্যের খানিকটা অভাব রয়েছে। লুকা ডিন এবং থিও আক্রমণভাগে চোস্ত, তবে তাঁদের ডিফেন্ড করার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। আবার থিও-র দাদা লুকাস রক্ষণে জমাট, তবে আক্রমণের ক্ষেত্রে তিনি ততটা স্বচ্ছল নন। 

আর একটি বিষয় যেটি লাঁ ব্লার হয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা হল ইগোর লড়াই। বিশ্ববন্দিত খেলোয়াড়দের যে ইগোও কিছু কম হয় না, তা সকলেরই জানা। তাই একগুচ্ছ তারকা ফুটবলার থাকলেও, অনেক সময়ই তাঁরা এক দল হয়ে পারফর্ম করতে পারে না, ঠিক যে বিষয়টা বেলজিয়াম বা ইংল্যান্ডের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-র ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল। ফ্রান্সের ক্ষেত্রেও তেমন অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হওয়ার একটা সম্ভাবনা তো রয়েইছে।   

পাশাপাশি কিছু সময়ের জন্য বেশ কিছু ম্যাচের মাঝে ফ্রান্স দলের খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণভাবে একাগ্রতা নষ্ট হওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে। বিশ্বকাপে এমনটা হলে কিন্তু তা লা ব্লাঁর জন্য ভয়ঙ্কর প্রমাণ হতে পারে।

এক্স-ফ্যাক্টর

গত বিশ্বকাপের ফাইনালের স্মৃতি নিশ্চয়ই এখনও সকল ফুটবলপ্রেমীদের মনেই তাজা। সেই ফাইনালে আর্জেন্তিনা জিতলেও, ফ্রান্সের হয়ে কার্যত একা ম্য়াচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এমবাপেকে বাদ দিয়ে অন্য় কাউকে ফ্রান্সের এক্স-ফ্যাক্টর হিসাবে ভাবাটা বেশ কঠিন। এমবাপে এ মরশুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোনও ট্রফি জিততে না পারায় তিনি যে বিশ্বজয়ের জন্য বাড়তি খিদে নিয়ে মাঠে নামবেন, তা বলাই বাহুল্য। ফরাসি অধিনায়ক কিন্তু ৪৪ ম্যাচে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২টি গোল করেছেন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে তিনি কেমন ফর্মে রয়েছেন। মুশকিল ম্যাচে চাপের মাঝে ফের একবার এমবাপেকে ফ্রান্সের হয়ে জ্বলে উঠতে দেখলে কেউই অবাক হবেন না।

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ দল:-

গোলকিপার

মাইক মেনিয়ঁ, ব্রিস সাম্বা, রবিন রিসার

ডিফেন্ডার

ম্যাক্সেন্স লাখোয়াঁ, ইব্রাহিমা কোনাটে, জুলস কুন্ডে, লুকাস হার্নান্ডেজ়, থিও হার্নান্ডেজ়, উইলিয়াম সালিবা, ডায়ট উপমেকানো, লুকা ডিন, মালো গুস্তো

মিডফিল্ডার

মানু কোনো, অরেলিয়েন ছুয়ামেনি, এনগলো কন্তে, অ্যাদ্রিয়ান ব়্যাবিয়োঁ, ওয়ারেন জ়াইর-এমেরি , রায়ান ছার্কি , মাখনেস অ্যাখলিউশ 

ফরোয়ার্ড

দেজ়িয়ে দুয়ে, মাইকেল ওলিজ়ে, কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বার্কোলা, মার্কাস থুরাম, জিন-ফিলিপ মাটেট

ফ্রান্সের গ্রুপ পর্বের সূচি:-

১৭ জুন- বনাম সেনেগাল, নিউ জার্সি স্টেডিয়াম, নিউ ইয়র্ক, রাত ১২.৩০টা
২৩ জুন- বনাম ইরাক, ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম, রাত ২.৩০টা
২৭ জুন- বনাম নরওয়ে, বস্টন স্টেডিয়াম, মধ্যরাত ১২.৩০টে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *