বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেন শিবিরে চিন্তার ভাঁজ। শুক্রবার মূল দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেন না লামিনে ইয়ামাল। তাঁকে বাঁ উরুতে মোটা করে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে। আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে ফাইনালের আগে যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্পেন শিবিরে। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পরই স্পেন ফাইনাল ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল। তবে বার্সেলোনার এই উইঙ্গার মূল অনুশীলনে অংশ নেননি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইয়ামাল ও পেদ্রো পোরো—উভয়েই দলের মূল অনুশীলনের বাইরে হালকা অনুশীলন করেছেন। ম্যাচের ২২তম মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর লুকাস দিগনের ট্যাকলে পড়ে গিয়ে ইয়ামাল বেশ জোরালো আঘাত পেয়েছিলেন। সেই ঘটনায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন মিকেল ওয়ারজাবাল। যদিও এই তরুণ খেলোয়াড় পুরো ম্যাচেই খেলেছিলেন। ম্যাচ শেষে তাঁর ব্যথা বেড়ে যায় এবং ডালাসে দলের হোটেলে স্পেনের মেডিক্যাল স্টাফরা তাঁর চিকিৎসা করেন। তবে এই চোটের কারণে তাঁর খেলা আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। আর্জেন্তিনার বিপক্ষে ফাইনালে তাঁর খেলার কথা রয়েছে।
এরই মধ্যে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা একটি বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্তিনার খেলোয়াড়রা এই ব্যানারটি প্রদর্শন করেছিলেন। ব্যানারটিতে বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রসঙ্গ ছিল—যে দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে কয়েক দশক আগে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্তিনা দলের খেলোয়াড়রা যে ব্যানারটি প্রদর্শন করেছিলেন, সেটিকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকার ‘অসংবেদনশীল’ হিসেবে অভিহিত করার পর ফিফা এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
চলতি বিশ্বকাপে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্তিনার খেলোয়াড়রা এই বিতর্কিত বিষয়টি সামনে আনলেন। এর আগে, রাউন্ড অফ সিক্সটিনে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর ফকল্যান্ডস-এর প্রসঙ্গ টেনে তাঁরা একটি স্লোগান দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, সালটা ১৯৮২, এক ছোট্ট দ্বীপকে ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্তিনা (England vs Argentina)। সেই যুদ্ধের স্মৃতি এখনও অমলিন। এখনও সেই ফকল্য়ান্ড দ্বীপ ঘুরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুন যে জ্বলছে, তা ফের একবার ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) সেমিফাইনালের পর স্পষ্ট হয়ে গেছে।
ম্যাচের শেষ লিসান্দ্রো মার্তিনেজ়, লো সেলসোরা স্ট্যান্ডে উপস্থিত এক আর্জেন্তাইন সমর্থকের থেকে চেয়ে মাঠেই ব্যানার তুলে ধরেন। যাতে লেখা, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আমাদের।’ ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে কোনও রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া যায় না বা ব্যানার তুলে ধরা যায় না।
