Janmashtami Pujo: ১৫ বছর পর বিরল যোগ, রাতের এই সময়টাতেই জন্মাষ্টমী শুভ মুহূর্ত—জেনে নিন নিশীথ পুজোর সময়


কলকাতা: শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল মধ্যরাতে। তাই জন্মাষ্টমীর পুজোর ক্ষেত্রে দিনের অন্য সময়ের তুলনায় নিশীথকালকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই লাড্ডু গোপালের জন্মোৎসব, অভিষেক এবং আরাধনা করলে ভক্তি ও প্রার্থনার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।

২০২৬ সালের জন্মাষ্টমীও হতে চলেছে বিশেষ। কারণ এবছর অষ্টমী তিথির সঙ্গে রোহিণী নক্ষত্রের বিশেষ যোগ তৈরি হচ্ছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রোহিণী নক্ষত্রেই মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। এমন সংযোগ প্রায় ১৫ বছর পর দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪ সেপ্টেম্বরই জন্মাষ্টমী?

২০২৬ সালে শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর অধিকাংশ জায়গায় জন্মাষ্টমী পালন করা হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ২৫ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৩ মিনিটে। উদয় তিথির হিসাব অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বরই মূল উৎসব পালিত হবে। তবে কিছু বৈষ্ণব সম্প্রদায় এবং নির্দিষ্ট মন্দিরে স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী ৫ সেপ্টেম্বরও জন্মাষ্টমী পালন হতে পারে। তাই উপবাস বা বিশেষ আচার পালনের ক্ষেত্রে নিজের এলাকার পঞ্জিকা বা মন্দিরের রীতি মেনে চলাই ভালো।

কখন করবেন কৃষ্ণপুজো?

জন্মাষ্টমীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল নিশীথকাল।

পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ১১টা ৫৭ মিনিট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত নিশীথ পুজোর সময় থাকবে। অন্য প্রতিবেদনে এই সময়কে প্রায় রাত ১১টা ৫৬ মিনিট থেকে ১২টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত বলা হয়েছে। অর্থাৎ, স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী রাত ১২টার আশপাশের এই নিশীথকালেই মূল পুজো করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়েই লাড্ডু গোপালের জন্মোৎসব, অভিষেক এবং আরতি করা হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মমুহূর্তকে স্মরণ করে এই সময়ে নিষ্ঠাভরে পুজো ও প্রার্থনা করলে ভক্তরা তাঁর কৃপা ও আশীর্বাদ লাভের আশা করেন। তবে এটি ধর্মীয় বিশ্বাস, নিশ্চিত ফলের দাবি নয়।

কীভাবে করবেন পুজো?

জন্মাষ্টমীর দিন সকালে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরে পুজোর প্রস্তুতি নেওয়া যায়। বাড়ির ঠাকুরঘর পরিষ্কার করে লাড্ডু গোপালকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখতে পারেন।

নিশীথকালে—

দুধ, দই, মধু, ঘি ও জল দিয়ে পঞ্চামৃত স্নান করানো হয়।
এরপর গোপালকে নতুন বা পরিষ্কার পোশাক পরানো হয়।
মাখন, মিছরি, লাড্ডু, ফল ও সাত্ত্বিক নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়।
শঙ্খ ও ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে আরতি করা হয়।
অনেক জায়গায় লাড্ডু গোপালকে দোলনায় বসিয়ে দোলানোর রীতিও রয়েছে।
পুজো শেষে প্রসাদ পরিবারের সকলের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

কেন এত বিশেষ ২০২৬-এর জন্মাষ্টমী?

জন্মাষ্টমী প্রতি বছরই ভক্তদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশেষ আকর্ষণ অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের সংযোগ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল অষ্টমী তিথির মধ্যরাতে রোহিণী নক্ষত্রে। তাই একই ধরনের যোগ তৈরি হওয়ায় এবারের জন্মাষ্টমীকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন অনেকেই।

উপবাস কখন ভাঙবেন?

জন্মাষ্টমীতে বহু ভক্ত উপবাস পালন করেন। সাধারণভাবে ৫ সেপ্টেম্বর সূর্যোদয়ের পর উপবাস ভাঙার রীতি রয়েছে। তবে সম্প্রদায়, স্থানীয় পঞ্জিকা এবং পারিবারিক রীতি অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হতে পারে। কেউ কেউ মধ্যরাতে কৃষ্ণের জন্মোৎসব ও পুজো সম্পন্ন হওয়ার পরও উপবাস ভাঙেন।

তাই, জন্মাষ্টমীর রাতে ঘরে লাড্ডু গোপালের পুজো করলে রাত ১২টার আশপাশের নিশীথকালটিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে পারেন। এই সময় শ্রীকৃষ্ণের জন্মমুহূর্ত স্মরণ করে ভক্তিভরে পুজো, আরতি ও প্রার্থনা করাই মূল বিষয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *