- বাগদার ভোটে মতুয়া পরিবারের দুই সদস্যের মুখোমুখি লড়াই।
- তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর, প্রতিপক্ষ বিজেপির সোমা ঠাকুর।
- নির্বাচনী প্রচারের মাঝে ভাত, ডাল, এঁচোড় চিংড়ি খাচ্ছেন মধুপর্ণা।
- SIR নিয়ে অবিচারের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব প্রাপ্তির লড়াইয়ে অবিচল তিনি।
সমীরণ পাল, কলকাতা: বাগদায় এবার মুখোমুখি লড়াই মতুয়া ঠাকুরবাড়ির দুই সদস্যের। বিজেপির সোমা ঠাকুরের বিরুদ্ধে প্রার্থী ননদ মধুপর্ণা ঠাকুর (Madhuparna Thakur)। দিনভর চলছে জনসংযোগ-প্রচার। তার ফাঁকে কী খাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী? খোঁজ নিল এবিপি আনন্দ।
মধুপর্ণার কঠিন লড়াই
২০২৪-এ বিধানসভা উপনির্বাচনে জিতে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলেন। মতুয়া অধ্যুষিত বাগদায় এবারও বিদায়ী বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। রাজনীতি তার রক্তে। মধুপর্ণার বাবা কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর ছিলেন তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ। পরে তাঁর মা মমতা ঠাকুর তৃণমূলের টিকিটে জিতে লোকসভায় যান, কিন্তু শান্তনু ঠাকুরের কাছে পরাজিত হওয়ার পর, তাঁকে রাজ্য়সভায় পাঠায় তৃণমূল। অন্য়দিকে মতুয়া বাড়িরই আরেক সদস্য় শান্তনু ঠাকুর বিজেপি সাংসদ ও দুবারের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। শান্তনু ঠাকুরের ভাইও বিজেপি বিধায়ক। তাঁর বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর আবার একটা সময় মমতা মন্ত্রিসভার সদস্য় ছিলেন। আর এবারের ভোটে মধুপর্ণার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরই বউদি, শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। বাগদা বিধানসভা থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।
মধুপর্ণার পাওয়ার মিল
লড়াই কঠিন। তাই যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে চাই প্রচুর এনার্জি। শক্তি সঞ্চয় করতে কী খাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী? খোঁজ নিতে পৌঁছে গিয়েছিল এবিপি আনন্দ। বাগদার তৃণমূল প্রার্থীর পাতে ছিল, ভাত, টক ডাল, আলু ভাজা, এঁচোড় চিংড়ি। সকালেও ভাত খেয়েই প্রচারে বেরোন তৃণমূল প্রার্থী। কাজের ফাঁকে সময় পেলে বাড়ি ফিরে লাঞ্চ। তারপরেই আবার জনসংযোগে দৌড়। রাতেও ভাত খেতেই পছন্দ করেন তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু এবার বাগদার ভোটাররা তাঁকে কতটা পছন্দ করবেন? জানা যাবে চৌঠা মে।
SIR নিয়ে সরব মধুপর্ণা
SIR প্রসঙ্গে মধুপর্ণা ঠাকুর এর আগে বলেছিলেন, ‘আমি বিজেপিকে নিয়ে কোনও কথা বলতে চাই না। কেবল নিজের দল নিয়েই কথা বলতে চাই। অন্যান্য দল কী করছে, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। অনেক বৈধ ভোটারের নাম SIR-এ কাটা পড়েছে। কিন্তু তাঁদের সমস্ত নথি রয়েছে। আমরা জানি। আমাদের একটাই দাবি, আমরা নিঃস্বার্থ নাগরিকত্ব চাই। কেন এই সাধারণ অধিকার দেওয়ার পিছনে এত স্বার্থ দেখা হবে? এই লড়াইয়ে সবসময়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন আমাদের সঙ্গে রয়েছে।’ ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারই হাতিয়ার মধুপর্ণার। জোর দিচ্ছেন তাতেই। তাঁর আশা, মানুষ ভোটবাক্সেই জবাব দেবেন।
