কলকাতা: টাস্কের সময়ে, গুরুতর চোট ৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছে, অভিনেত্রী সৃজলা গুহ (Srijla Guha)-কে। বিগ বস বাংলার (Big Boss Bangla) হাউজের প্রতিযোগী তিনি। ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছেন সৃজলা, নিজের হিসেব মতোই এই ঘরে খেলছেন তিনি, ছাপ ফেলেছেন দর্শকদের মনেও। তবে সদ্যই ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক করতে গিয়ে, গুরুতর আহত হন সৃজলা। শনিবার, ‘দাদার দরবার’-এ ফের এই ঘরে ফিরে আসেন তিনি। সেখানে এসে তিনি শোনান, গত ৫ দিন কী কী অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন তিনি?
চোট সারিয়ে বিগ বসের ঘরে ফিরলেন সৃজলা
এদিন ‘দাদার দরবার’ চলাকালীন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) জিতুকে বলেন, কনফেশন রুমে কেউ একজন অপেক্ষা করছেন, তাঁকে নিয়ে আসতে। এরপরে জিতু কনফেশন রুমে গিয়ে দেখেন, সেখানে সৃজলা বসে রয়েছেন। জিতু আস্তে আস্তে, সৃজলাকে ধরে মূল ঘরে নিয়ে আসেন। সৃজলা বিগ বসের ঘরে পা রাখতেই, চোখে জল দুর্নিবারের, ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন তিনি। এর আগে দুর্নিবার বারে বারেই সৃজলার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ক্যামেরার সামনে এসে এই কথাও বলেছেন যে, তাঁর দায়িত্ব ছিল সৃজলার কাঠের ঘোড়াটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকার, কিন্তু তিনি তা থাকতে পারেননি। এদিন ও দুর্নিবার স্বীকার করে নেন যে, তিনি যদি সৃজলার ঘোড়াটা ধরে সেই সময়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তাহলে হয়তো দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও লঘু করা যেত।
দুর্নিবার আর সোনামণির ওপরে সৃজলার ‘অভিমান’
এদিন সৃজলাও কথা বলতে গিয়ে বলেন, তিনি দুর্নিবার এবং সোনামণির কাজ নিয়ে হতাশ। নন্দিনী যখন সৃজলার ঘোড়ার সামনে এসেছিলেন, তখন সৃজলা বারে বারে ডাকছিলেন সোনামণিকে। তিনি বলছিলেন, নন্দিনীকে কোনোভাবে যাতে তাঁর ঘোড়ার সামনে থেকে সরিয়ে দেন সোনামণি বা দুর্নিবার। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই, সৃজলার ঘোড়ার আশেপাশেও কেউ ছিলেন না। সৃজলার কথায় নন্দিনী তাঁর ঘোড়াটি ধরে আছাড় মারেন। মুখ থুবড়ে ঘোড়া থেকে পড়ে যান সৃজলা। এদিন ‘দাদার দরবার’-এ সৃজলা চোখে জল নিয়ে বলেন, ‘ঘোড়াটাকে সামনের দিকে আছাড় মারা হয়েছিল। আমার ডান পায়ে ফার্স্ট গ্রেড এসিএল টিয়ার হয়। আমার রোজ ড্রেসিং করতে হয়। আমি পাঁচদিন একা একটা শহরে ছিলাম। যেখানে আমি কারও সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। একে বসে কেঁদেছি হাসপাতালে, একটু নিজের লোকের গলা শুনব বলে। এরকম অভিজ্ঞতা যেন আমার শত্রুরও না হয়।’
সৃজলাকে দেখে, চোখে জল দুর্নিবারের
এদিন সৃজলা ঘরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই কেঁদে ফেলেন দুর্নিবার। সৃজলাও ঘরে ঢুকে জড়িয়ে ধরেন তাঁকে। পরে অবশ্য সৃজলা বলেন, তিনি দুর্নিবারকে নিয়ে হতাশ। দুর্নিবার চাইলে হয়তো তাঁকে ওভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে পারতেন। দুর্নিবার সে কথা মেনে নেন এবং বলেন, সৃজলার হতাশ হওয়া ভীষণ স্বাভাবিক। কারণ দুর্নিবার সত্যিই রক্ষা করতে পারেননি সৃজলাকে।
