সন্দীপ সরকার, নন্দীগ্রাম : অন্তর্বর্তী জামিনে অবশেষে জেল থেকে মুক্তি পেলেন মিলন প্রধান। উপনির্বাচনের আগে ১২ দিন পরে জেল থেকে ছাড়া পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী। জেলের বাইরে থেকেই এবার ভোটের ময়দানে পুরোদস্তুর নামতে চলেছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে অভ্যর্থনায় হাজির ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। গত ১৮ অক্টোবর নন্দীগ্রামের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন মিলন প্রধান।
জেল থেকে বেরনোর পর এবিপি আনন্দকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একাধিক বিষয়ে আলোকপাত করলেন মিলন প্রধান। তাঁকে এবিপি আনন্দর তরফে প্রশ্ন করা হয়, এই যে ক’টা দিন জেলে কাটাতে হল…কেন কাটাতে হল ?
উত্তরে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, “মিথ্যা মামলায়। ২০০৭ সালে যে মামলা হয়েছিল, ২০০৭ সালে আপনি জানেন যে আমাদের আন্দোলনের সঙ্গী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি যদি না থাকতেন নন্দীগ্রামের আন্দোলন পূর্ণতা পেত না। ওই মামলায় যারা তথাকথিত তৃণমূল সমর্থক ছিলেন, তাঁরা এখন শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছেন। তাঁদের নামেও তো ওয়ারেন্ট হয়ে আছে। তাঁদের তো ওয়ারেন্ট কার্যকর করছেন না ? উনি দেখে দেখে আমাদের গ্রেফতার করছেন মিথ্যা মামলায়।”
এবিপি আনন্দ : কীভাবে আপনাকে গ্রেফতার করল ?
মিলন প্রধান : সকালে প্রচারে ছিলাম নন্দীগ্রাম ব্লক-২-তে। চণ্ডীপুরে এসেছিলাম। জাস্ট ড্রেস চেঞ্জ করেছি। সব ভিজে গেছে। ড্রেস চেঞ্জ করে একটু বসেছিলাম। আমার দরজায় কড়া নাড়ল। সিভিল ড্রেসে। ২-৪ জন ঢুকে গেল ভিতরে। আপনি মিলন প্রধান ? আমি বললাম, হ্যাঁ আমি মিলন প্রধান। বললেন, আপনি চলুন। বললাম, কোথায় যাব ? বললেন, আপনি চলুন। বলে, আমাকে কোমড়ে একপ্রকার জোর করে ধরে ঝুলিয়ে নিল। জোর করে ফিল্মি কায়দায় আমাকে ৩ তলার উপর থেকে টানতে টানতে নামিয়ে আনল। হাত ছিঁড়ে গেছে। আমাকে নিয়ে এসে জোর করে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলল। স্করপিও গাড়িতে। তুলে বন্ধ করে দিয়ে…হেঁড়িয়ার দিকে…আমাকে গাড়ি ছেড়ে দিল। হেঁড়িয়া পর্যন্ত আমার চোখ বাঁধেনি। হেঁড়িয়ার পর আমার চোখ বাঁধল গামছা দিয়ে। চোখ টাইট করে বাঁধল। আমি বললাম, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। বললেন, একটুখানি আপনি নিন। তারপরে আবার গামছা নামিয়ে দিচ্ছেন, যাতে আমি একটুখানিও না দেখতে পাই। আমাকে এভাবে নিয়ে যেতে যেতে…মনে হল যেন কাঁথি, দিঘা, রামনগর পেরোলাম। এভাবে আমাকে নিয়ে গেল মন্দারমণি। সেখানে নিয়ে গিয়ে আবার হাঁটিয়ে নিয়ে গিয়ে লিফ্টে তুললেন উপরে। উপরে নিয়ে গিয়ে বললেন, আপনি কী খাবেন বলুন ? আপনি ফ্রুট জুস খান, ড্রাই ফ্রুট খান…প্রচুর খাবারের ব্যবস্থা। আপনি যা খাওয়ার খান। আপনার কী চায় বলুন ? বিনিময়ে আপনাকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে হবে। আমি বললাম, আমাকে মাফ করবেন। আমি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে পারব না। তারপরে সাড়ে ১১টা-১২টার দিকে আবার গামছা বাঁধল। লিফ্টে নীচে নামিয়ে আমায় গাড়িতে তুলল। গাড়িতে সেই একই কায়দায় আড়াইটা-৩টের দিকে আমাকে চণ্ডীপুর থানায় নিয়ে এল।
Rosevalley News | রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরতে চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিল হাইকোর্ট
