কলকাতার স্কুল থেকে সরল কার্ল মার্কস, মাও সে তুং-এর ছবি ; আপত্তি জানায় RSS-এর শিক্ষক সংগঠন


হিন্দোল দে, কলকাতা : কলকাতার বেসরকারি স্কুল থেকে সরানো হল কার্ল মার্কস, মাও সে তুং-এর ছবি। ঢাকুরিয়ার লেক ভিউ স্কুলের টিচার্স রুম থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ছবিগুলি। এদিন লেক ভিউ স্কুলে যান অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈখিক মহাসঙ্ঘের প্রতিনিধিরা। বিদেশিদের ছবিতে আপত্তি থাকায় সেগুলি সরানোর দাবি তোলে RSS-এর শিক্ষক সংগঠন। এরপর কার্ল মার্কস, মাও সে তুং-এর ছবি সরিয়ে দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

লেক ভিউ স্কুলে বেশকিছু মণীষীর ছবির সঙ্গে আরও কিছু ছবি রয়েছে। যে ছবি নিয়ে এদিন প্রশ্ন তোলেন ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈখিক মহাসঙ্ঘের সদস্যরা। তাঁরা স্কুলে এসে টিচার ইনচার্জের সঙ্গে দেখা করেন। এমন কিছু ছবি রয়েছে যেগুলি রাখা প্রাসঙ্গিক নয় বলে তাঁদের তরফে বার্তা দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে কলকাতার অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈখিক মহাসঙ্ঘের সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, “আমাদের অভিযোগ-বার্তা সবই বলতে পারেন…স্কুলের করিডরে যখন ঢুকবেন, প্রথমেই দেখছে মাও সে তুং-এর ছবি, চে গুয়েভারার ছবি, স্ট্যালিনের ছবি। হেড মাস্টারের ঘরে আপনি এপিজে আব্দুল কালামের ছবি পাবেন না। পাবেন না দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি। কিন্তু উল্টোদিকে আপনি পাচ্ছেন হুগো সাভেজের ছবি। যিনি কিনা ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। জিনিসটা সম্পূর্ণ বেমানান। আপনি পাচ্ছেন না বি আর আম্বেদকরের ছবি। পাচ্ছেন না নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ছবি। অথচ স্টাফরুমে পাচ্ছেন কার্ল মার্কসের ছবি। আমাদের সামগ্রিক বিষয়টা এখানেই। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে জানিয়েছি। উনি বলছেন, পরিবর্তন করব। কিন্তু, ২০ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। ২০ বছর ধরে একটা স্কুলে কার্যত রাজনৈতিক বিষয়গুলো চলেছে, নাকি রাষ্ট্র চিন্তায় ছাত্র তৈরি করা হয়েছে, এই প্রশ্নটা সবার কাছেই ।”

অন্যদিকে লেক ভিউ হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সুদীপ্ত দে বলেন, “টিচার ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছি মে মাসে। মে মাসের শেষে। বহু বছর ধরেই ছবিগুলো রয়েছে। আপত্তি ওঁরা তুলেছেন ছবিগুলি নিয়ে। খুব যুক্তিযুক্তই এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে। কেউ অভিযোগও জানাননি। যদি একবার বলতেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে…কোনও আধিকারিক এসেছেন…কেউ কিছু বলেননি। ছাত্ররাও বলেনি। ফলে, আমাদের মাথায় আসেনি। ওঁরা যখন তুলে ধরেছেন…আমি কথা দিচ্ছি, সাতদিনের মধ্যে আমরা এই সমস্ত ছবি একেবারে সরিয়ে দেব। এবং যে ছবিগুলো দরকার…অবশ্যই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি, অবশ্যই আমরা সেটা টাঙাব। ভবিষ্যতে এটাই বজায় থাকবে।” 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *