সোলো-ট্রিপ এখন অনেকেরই স্বপ্ন। ব্যাগ গুছিয়ে দেশ দেখতে বেরিয়ে পড়া এখন ইন-ট্রেন্ড। আর সেই সঙ্গে কেউ যদি হন, ট্রাভেল ভ্লগার , তাহলে তো সোলো-ট্রিপ করা খুবই স্বাভাবির বিষয়। কিন্তু সোলো-ট্রিপ করতে গিয়ে যে কাউকে কোনও দেশে গিয়ে দফায় দফায় জেরার মুখে পড়তে হবে,তা বোধ হয় ভাবতেই পারেননি ভ্লগার অরুণিমা। কিছুদিন আগের কথা। আফগানিস্তানে বেড়াতে গিয়ে গা – শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার শিকার হতে হল ট্রাভেল ভ্লগার অরুণিমাকে। প্রথমে তো তিনি ভেবেছিলেন তাঁকে আটক করেছে মুজাহিদিন। পরে অবশ্য নিজের দাবি বদলে অরুণিমা বলেন, একা ভ্রমণ করায় আফগানিস্তানের বামিয়ানে তাঁকে আটক করা হয়। দফায় দফায় তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় আটকে রেখে জেরাও করা হয়।
কেরলের ট্রাভেল ভ্লগার অরুণিমাকে চেনেন অনেকেই। সেই অরুণিমাই দিন কয়েক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় SOS পোস্ট করে ভারতীয় দূতাবাসের সাহায্য চান। কিন্তু প্রায় তিন ঘণ্টা পর নাকি তিনি বুঝতে পারেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়নি, বরং তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে তিনি মহিলা হয়ে সোলো-ট্রিপ করছেন বলে। তাঁকে অপহরণ বা গ্রেফতার করা হয়নি। আফগানিস্তানে ভ্রমণে তাঁকে এমন অভিজ্ঞতার শিকার হতে হল, যা আগে কখনও তাঁর সঙ্গে ঘটেনি। ‘Backpacker Arunima’ নামে পরিচিত এই ভ্লগার একাই আফগানিস্তান ঘুরতে গিয়েছিলেন। বামিয়ানে গিয়ে অরুণিমা দাবি করেন, তাঁকে ‘মুজাহিদিন’ আটক করেছে বলে । ভয় পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তাও দেন অরুণিমা। এরপর ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্য চান। অভিযোগ তাঁকে নাকি বলা হয়,
সরকারি অনুমতিপত্র না থাকায় নাকি তাঁকে আটক করা হয়েছে। পরে অবশ্য তিনি বুঝতে পারেন, তাঁকে আটকে রাখার কারণ অন্য। তালিবানি সমাজে একা মহিলা দেশ ঘুরে বেড়াবে , এটা মেনে নেওয়া হয় না। একা মহিলা হয়ে তিনি আফগানিস্তানে গিয়েছেন, সেটাই তাঁর ভুল। সেই জন্যই সে-দেশে তাঁকে নাকাল হতে হয়, দাবি করেছেন ওই ট্রাভেল ব্লগার। অরুণিমার দাবি, তাঁকে বলা হয়, আফগানিস্তানের নিয়ম অনুযায়ী কোনও মহিলা একা ভ্রমণ করতে পারেন না। প্রতিটি প্রদেশে যাওয়ার জন্য আলাদা অনুমতিরও প্রয়োজন হয়। অরুণিমা জানিয়েছেন, তিনি একা ভ্রমণ করছিলেন। তাই আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পাননি। এর আগে জালালাবাদেও তাঁকে একা ভ্রমণ করতে দেওয়া হয়নি। বামিয়ানে তাঁকে আরও বলা হয়, অনুমতি ছাড়া এবং গাইড ছাড়া ভ্রমণ করা যাবে না। এরপর বারবার বাধা ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। যোগাযোগ করেন সেই ব্যক্তির সঙ্গে, যিনি তাঁর বেড়াতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা চলে। অরুণিমা জানান, তাঁকে জরিমানা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কারণ তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অনুমতি ছাড়াই আফগানিস্তানে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটে যায়।
অরুণিমা দাবি করেছেন, আফগানিস্তানে ভ্রমণের সময় তাঁকে একাধিকবার থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সমস্যার মূল কারণই হল, তিনি একজন মহিলা এবং একাই বেড়াতে গিয়েছিলেন। অরুণিমার অনেক পুরুষ বন্ধু আফগানিস্তান ঘুরেছেন। তাঁদের এমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। কিন্তু মহিলা পর্যটকদের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। তাঁদের সঙ্গে পুরুষ বা অনুমোদিত গাইড থাকলে তবেই ঘুরতে দেওয়া হয়। তবে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, অরুণিমা আফগানিস্তানে পর্যটন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করেছিলেন।
তাঁর সরকারি অনুমতিপত্রও ছিল না। তবে তাঁকে অপহরণ, আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি বলেই দাবি কূটনৈতিক সূত্রে। অরুণিমার অভিযোগ নিয়ে এখনও কাবুল বা নয়াদিল্লির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
State Medical Council: রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ
