ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম: গত কয়েক দিনের কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। আর সেই বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়ল মাটির বাড়ি, চাপা পড়ে মৃত্যু হল বৃদ্ধার। ঘটনাটি বীরভূমের (Birbhum News) লাভপুরে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বীরভূমের লাভপুরে মাটির বাড়ি ভেঙে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। মৃতের নাম মালতি চৌধুরী, বয়স ৬৪ বছর। ঘটনাটি ঘটেছে লাভপুর থানার সামনে। এই মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই আবাসন প্রকল্পে বাড়ি না পাওয়ার ক্ষোভ উগরে দিল মৃতের পরিবার। পরিবারের অভিযোগ আবাস যোজনায় (Awas Yojana) বারবার আবেদন করেও মেলেনি পাকা বাড়ি। পেলে হয়তো এই ভাবে মালতি দেবীর মৃত্যু হত না।
লাভপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতর বাসিন্দা মালতি চৌধুরী মাটির বাড়িতেই বসবাস করতেন। পরিবারের অভিযোগ, সরকারি আবাসনের জন্য বারবার আবেদন করা হলেও বাড়ি না মেলায় অগ্যতা বাধ্য হয়েই ভাঙাচোরা বাড়িতেই দিন কাটাতে হচ্ছিল তাঁকে। তবে গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে আলগা হয়ে যায় বাড়ির দেওয়াল। বুধবার সকালে মালতি দেবী বাড়ির ভিতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছিলেন। আর সেই বাড়ি পরিষ্কারের কাজ করার সময়ই ঘটে যায় বিপত্তি। সেই সময় আচমকাই মাটির বাড়িটি ভেঙে পড়ে। দেওয়ালের নীচে চাপা পড়ে যান মালতি দেবী।
টের পরেই মালতি দেবীর পরিবার এবং তাঁর প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মাটি সরিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। নিয়ে যাওয়া হয় লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে গিয়েই দুঃসংবাদ পান তাঁরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিগত কয়েকদিন বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপ আপাতত ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সিস্টেমটি ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ় এবং দক্ষিণ-পূর্ব উত্তরপ্রদেশ পেরিয়ে সংলগ্ন মধ্যপ্রদেশের দিকে পৌঁছেছে। শক্তিও কমেছে। গভীর নিম্নচাপ থেকে দুর্বল হয়ে সেটি এখন সুস্পষ্ট নিম্নচাপের রূপ নিয়েছে। ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সামগ্রিক তীব্রতা ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা এখনই নেই।
আপাতত উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মেঘলা আকাশের পাশাপাশি দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে বর্ষাকালের বৃষ্টির চরিত্র অনুযায়ী সব জায়গায় একই সময়ে বা একই পরিমাণ বৃষ্টি হবে না। এক এলাকায় ভারী বৃষ্টি হলেও কয়েক কিলোমিটার দূরে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হতে পারে। সর্বশেষ সরকারি পূর্বাভাসে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি চলার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে।
Minakshi Mukherjee | পরপর পড়ল ডিম! শীতলকুচিতে গিয়ে হামলার মুখে মীনাক্ষী
