কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিনিয়ত বার্তা দিয়ে এসেছেন যে, দুর্নীতি হলেই কোনও আপোষ করা হবে না। অর্থাৎ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’। যে বা যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবে, সরকার কড়া ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু হঠাৎ দলের নেতাদের কিছু কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য থেকে অগ্নিমিত্রা পাল, সকলেই দলের নেতাদের তোলাবাজি নিয়ে সরব হয়েছেন। পাশাপাশি এই ‘অসুখ’ রুখতে কড়া বার্তাও দেন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, ”সমস্ত কিছুর সমাধান করা যায়নি। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে যদি দাঁড়িয়ে আপনাদের সামনে বলি যে আমি সমস্ত জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, ভুল বলছি। বিচ্যুতি আছে। একটা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন চলে গেছে। একটা সহজ…মধ্য দিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত পরিমণ্ডল বদল হয়ে গেছে, এরকম নয়।”
আরও পড়ুন – ‘বিজেপির বহু নেতা তোলাবাজির মধুতে আসক্ত’ ! কারা তাঁরা ? বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ”আমাদের বহু নেতা তোলাবাজির মধুতে আসক্ত, তোলাবাজির সংস্কৃতি এত তাড়াতাড়ি উঠে যাবে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। পুলিশকে বলা হয়েছে অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের বহু নেতা আছে যারা এই মধুতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে, পার্টিও নজর রেখেছে চেষ্টা করছে, পার্টির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। এরা খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে যারা মানুষকে কষ্ট দিয়েছিল তাদের সঙ্গে। মানুষ যে উদ্দেশে বদল করেছে সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই। সময়ে সব হিসাবে হবে”। দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ”কিছু জন নতুন বিধায়ক হয়েছেন, যাঁরা ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে তোলাবাজদের। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে অনেকে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। তাঁদের কথাবার্তা একেবারে পাল্টে যাচ্ছে।”
রাজ্যের পুরমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ”সবাইকে কি আমরা ডিটারজেন্ট আর ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে এনেছি, তা তো নয়। আজকে সরকার এসেছে, তার মধ্য়ে অনেকে আছে, তারা ভাবছে আমি এটা করে এবার রোজগার করব। সামনে একটা কথা বলব, ভিতরে বলব না না, তোলাবাজি করো, 70-30-র হিসাবে, ৭০ ৫ নম্বর সল্টলেকে পাঠিয়ে দেবে, আর ৩০ তুমি রাখবে। এই ডিলিংগুলো আগের সরকারের মতো আমরা করি না।”
কী শাস্তি হবে ?
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ” প্রোমোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পার্টি আপনাকে ছাড়বে না। সে পুলিশই হোক, আর সে বিজেপির কোনও নেতাই হোক, কাউকে প্রোটেকশন দিতে গেলে আর মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে যাতায়াত বাড়িয়ে দিলে পার্টি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। যা করবে সরকার করবে। পার্টি কিন্তু আপনাকে রেয়াত করবে না।”
