কলকাতা: ১৯৮৫ সাল, ২২ জুলাই। ভোর ৫.৫৫-তে মৃত্য হয়েছিল, বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রীর। মহুয়া রায়চৌধুরী (Mahua Roy Choudhury)। নাহ.. স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। চলে যাওয়ার বয়স তাঁর হয়নি। কিন্তু একটা দুর্ঘটনায়, পুড়ে গিয়েছিল তাঁর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ। বাঁচানো যায়নি মহুয়াকে। বাংলা তথা ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রীর পথ চলা ফুরিয়ে গিয়েছিল মাত্র ২৬ বছর বয়সে। আর আজ, এত বছর পরে, সেই ২২ জুলাই, মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যদিবসে মুক্তি পেল, তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি ছবি, ‘গুন গুন করে মহুয়া’-র প্রথে লুক। গল্পের নামভূমিকায় থাকছেন, ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী, অঙ্কিতা মল্লিক (Ankita Mallick)-কে।
বড়পর্দার মহুয়া কতটা হয়ে উঠতে পারলেন অঙ্কিতা?
এই প্রথম বড়পর্দায় পা রাখছেন অঙ্কিতা, এর আগে ছোটপর্দার ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সেই জনপ্রিয়তাই তাঁর বড়পর্দার পথ সুগম করেছে। ‘গুন গুন করে মহুয়া’-র পরিচালনা করছেন, রাজদীপ ঘোষ। DAG Creative Media -এর ব্যানারে ছবিটির প্রযোজনা করছেন, রানা সরকার (Rana Sarkar)। সদ্যই রানা সরকারের প্রযোজিত সিনেমা, ‘অঙ্ক কী কঠিন’-বাংলায় জাতীয় পুরস্কার এনে দিয়েছে। এই ছবির ৩ শিশুশিল্পী জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে এই বছর। আর ‘গুন গুন করে মহুয়া’- নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী রানা। সোশ্যাল মিডিয়ায় হামেশাই ছবি সংক্রান্ত টুকটাক আপডেট শেয়ার করে নিতে থাকেন প্রযোজক। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ছবির হাত ধরেই, প্রকাশ্যে আসবে মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যু রহস্য।

যে লুক প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে অঙ্কিতাকে অনেকটাই মহুয়া রায়চৌধুরীর আদল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবি রূপটান শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুর কাঁধে ছিল এই গুরুদায়িত্ব। গোটা ছবিতে অঙ্কিতা কতটা মহুয়া হয়ে উঠতে পারলেন, সেই হিসেবনিকেশ অবশ্য দর্শক করবেন। জীবনীচিত্র করতে গিয়ে অনেক সময়েই অনেক নায়ক নায়িকা পিছিয়ে আসেন। কারণ এই ধরণের ছবিকে যথেষ্ট গুরুদায়িত্ব বলেই মনে করা হয়। যে মানুষকে প্রত্যেকে চেনেন, জানেন, পর্দায় অবিকল সেই মানুষটি হয়ে ওঠা নেহাৎ সহজ নয়। ছোটপর্দায় ‘জগদ্ধাত্রী’ হয়ে অঙ্কিতা যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, বড়পর্দায় মহুয়া রায়চৌধুরীর চরিত্রে তিনি কতটা নিখুঁত হতে পারলেন, তা দর্শক বলবে। তবে এই ছবির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মানুষ, কারণ এই ছবির সঙ্গে কোথাও না কোথাও একটা ব্যথা জড়িয়ে রয়েছে। বাংলার অন্যতম সম্ভবনাময় অভিনেত্রীকে এত অল্প বয়সে হারিয়ে ফেলার ব্যথা।

