কলকাতা: বালিগঞ্জ ফাঁড়িতে কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলকে কেন্দ্র করে তুলকালাম। বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলে মেজাজ হারালেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। বাড়ির সামনেই চড় মারলেন একজনকে।
আরও পড়ুন: “যাবতীয় লেনদেনই অত্যন্ত সন্দেহজনক”, তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করল ইডি
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “একটা রুটে হাইকোর্ট যখন কাউকে মিছিল করতে অ্যালাও করে, সেই রুটে অন্য কেউ তখন ১০ টা স্টেজ করে, বাধা তৈরি করে মিছিল করতে পারে না। আমি গেলে ভিড়টা দশ ডবল বেশি হত। আমরা হাইকোর্টের রুলটাকে অবমাননা করতে চাইনি তাই। হয়কোর্টের রায় মান্য করে আপনারা তো মিছিলটা শান্তিপূর্ণ ভাবে করতে দিতেন। কেন মিছিলের মধ্যে বিজেপিকে ঢুকতে এলাও করলেন? আমি প্রায় ২৫ জনকে হসপিটালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলাম।”
যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সরাসরি এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলকেই দায়ী করেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপি কর্মীদের কাছে এত সময় নেই যে কেউ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মিছিলে গিয়ে অংশগ্রহণ করবে। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দরজায় তৃণমূল কংগ্রেস মানে তাঁরই সোনার টুকরো ছেলেরা, ভাইয়েরা তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সুতরাং তিনি কী নিয়ে আন্দোলন করছেন ভুলে গেলেন? তাঁরই উত্তরাধিকারী অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন কোথায় গুলি মারতেন। হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেছিলেন এখানে গুলি মারতাম, এখানে। ভুলে গেলেন? সুতরাং তৃণমূল যা করছে, তৃণমূল যা করেছে, সেগুলো সবই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেখেছেন। সেজন্য তাঁরা তৃণমূলকে চির নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে।”
প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী যদিও স্বীকার করে নেন তাঁদের আমলে বিরোধী দলকে মিটিং বা মিছিল করতে দেওয়া হয়নি। তবে তিনি এটাও বলেন যে বর্তমান সরকার যেন সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, “আমাদের সময়ও বিভিন্ন সময় বিরোধী দলকে মিছিল করতে দেওয়া হয়নি, মিটিং করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু এটা কারা করছে? যারা এটা করছে তারা কি সবটা বোঝে যে কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়? আমার বক্তব্য হল, নতুন সরকারের কাছে এটা দাবি থাকবে যে, নতুন সরকারকে এই রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার যে কালচার কৃষ্টি এটাকে রক্ষা করতে হবে। এবং রাজনীতিগতভাবে রক্ষা করতে হবে। আমরা সেটা অবশ্যই আশা করতে পারি।”
Mahua Moitra: ‘আমার আশ্চর্য লাগছে যে, বিজেপি বলছে এটা দৈব বিচার’, বারুইপুরে এনকাউন্টার প্রসঙ্গে বললেন মহুয়া মৈত্র
