
ভয়াবহ হড়পা বানের কবলে পড়ল নেপাল। পাহাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান-সহ নেপালের একাধিক জেলা।

পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।

যেন পাহাড়ের কোলে বিস্ফোরণ! কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুদূতের মতো ধেয়ে এল বিপর্যয়!ব্যস্ত সময়ে কাগজের মতো ভেসে গেল কংক্রিটের সেতু। কাদা-জল-পাথরের স্রোতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বাড়ি। ভেসে গেল গাড়ি!

২০১৫-র ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরল ২০২৬-এ!নেপালে এবার জলপ্রলয়!হড়পা বানে বিধ্বস্ত হল নেপালের রাসুয়া সহ ৬ জেলা। মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। নেপাল প্রশাসন সূত্রে খবর, বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ তিব্বত থেকে নেমে আসা ভূতকোশি নদীর জলস্তর আচমকা বৃদ্ধি পায়।

নেপালের পড়শি দেশ চিন। কয়েকদিন ধরে সেখানে অতিবৃষ্টির ফলে তিব্বতের জলাধারে জলের পরিমাণ বাড়ছিল। বুধবার সকালে তিব্বতে সেই বাঁধ ভেঙে জল নেমে আসে ভুতকোশি নদী দিয়ে। বাঁধ ভাঙা হড়পা বানে ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপাবের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান সহ বিস্তীর্ণ এলাকার।

রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা না গেলেও ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা করছে রাসুয়া জেলা প্রশাসন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত এলাকাবাসীদের নিরাপদস্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, একাধিক গ্রাম কার্যত ধুয়েমুছে গিয়েছে।

আরও জানানো হয়েছে যে, এখন যা পরিস্থিতি, ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতজন মানুষের প্রাণ চলে গিয়েছে সেটা হিসেব করা সম্ভব হয়নি। এখন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই প্রাথমিক উদ্দেশ্য।

হড়পা বানে যে ব্রিজ ভেসে গিয়েছে, সেটি নতুন তৈরি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শুধু বাড়ি নয়, অগুনতি গাড়িও এই বানে ভেসে গিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সমস্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানেও গাড়ি ভেসে যাওয়া ও ব্রিজ ভেসে যাওয়ার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।

নেপাল ইন্ডিয়ান ট্যুরিজম বোর্ড (The Nepal Tourism Board) জানিয়েছে, নেপালের হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ। নেপাল সরকার জানিয়েছে, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Published at : 26 Aug 2026 03:56 PM (IST)
