কলকাতা: চিনি থেকে পঁয়াজ, দিন দিন বেড়েই চলেছে খাদ্য পণ্য সহ বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। যার জেরে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের। এর মাঝে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ২৫ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তার মাসিক বুলেটিনে আগস্ট মাসে দ্বিতীয়বারের মতো মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকির বিষয়ে গুরুতর সতর্কতা জারি করেছে। আর এর ফলে চিন্তায় পড়েছেন গোটা দেশের মানুষ।
‘অর্থনীতির অবস্থা’ সম্পর্কিত আগস্ট মাসের বুলেটিনের তথ্য় অনুযায়ী আরবিআই-এর দাবি, বাহ্যিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে। তবে, স্বাভাবিকের চেয়ে কম বর্ষার সম্ভাবনা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
আরবিআই কী বলেছে ?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সতর্ক করেছে যে, খাদ্য ও পানীয় থেকে শুরু করে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির ফলে দেশে পুনরায় ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিতে পারে। তবে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, উন্নত শিল্প কার্যকলাপ এবং শক্তিশালী কর্পোরেট মুনাফাকে প্রবৃদ্ধির সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে আরবিআই এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সতর্কতা জারি করল। এর আগে আগস্টের শুরুতে, আরবিআই তার মুদ্রানীতি বৈঠকে প্রথম সতর্কবার্তা জারি করে জানায় যে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। মঙ্গলবার ২৫শে আগস্ট দেওয়া দ্বিতীয় সতর্কবার্তায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সতর্ক করেছে যে, এই মূল্যস্ফীতি আর শুধু টমেটো ও পেঁয়াজের মতো নির্দিষ্ট কিছু সবজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এখন তা সমগ্র অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির কারণ কী ?
খাদ্যপণ্যের দাম মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। এ কারণেই জুলাই মাসে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) মুদ্রাস্ফীতি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য থেকে দেখা যায় যে, খাদ্যপণ্যের দাম মাসিক ভিত্তিতে ক্রমাগত বাড়ছে। চাল, গম, ভোজ্য তেল এবং ডালের দামে মাঝারি বৃদ্ধি ঘটছে। অন্যদিকে, মূল মুদ্রাস্ফীতি স্থিতিশীল রয়েছে। আবহাওয়ার কারণে সম্প্রতি চিনির দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। আরবিআই-এর মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ হল, কাঁচা মালের সরবরাহজনিত সমস্যা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। এদিকে, ভারত আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। এল নিনো এবং অসম বর্ষার প্রভাব কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
