গুরুগ্রাম : হয় অনাবৃষ্টি। নয়ত অতিবৃষ্টি । এল নিনোর প্রভাবে এবছর এমন বিক্ষিপ্ত বর্ষারই পূর্বাভাস করেছিলেন আবহবিদরা। প্রবল বৃষ্টির তোড়ে এখন ভাসছে উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকা। প্রবল বৃষ্টিতে দুর্ভোগের অন্ত নেই গুরুগ্রামের। এরই মধ্যে অফিস – বাড়ির যাতায়াত করতে হয়েছে অনেককেই। যাতায়াতের সেই দুর্ভোগ চিত্র তুলে ধরেছেন এক নেটিজেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক ভিডিওতেই প্রকাশ্যে এসেছে গুরুগ্রামের ভয়ঙ্কর অবস্থা।
হেনসি সোনি নামে এক মহিলা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তাতেই স্পষ্ট কী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। তিনি দাবি করেছেন, অফিস থেকে বাড়ি ফেরার মাত্র ৮ কিলোমিটার পথ পেরোতেই তাঁর সময় লেগে গিয়েছে আড়াই ঘণ্টা।
তিনি বলেছেন, অফিসে কাজের পর বাড়ি ফেরার অভিজ্ঞতা কার্যত ভয়াবহ। কারণ যতদূর চোখ যায়, ততদূরই গাড়ির সারি। আর সব গাড়িই প্রায় আটকে রয়েছে যানজটে। নড়াচড়ার উপায় নেই। তাই দুর্যোগের দিনে কোনও গাড়ি পেলেও তা তো নড়ছেই না। তাই অগত্যা হাঁটাই উপায়। যানজটে আটকে থাকা গাড়ির সারি পেরিয়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে মহিলাকে। ভিডিওতে তিনি দেখিয়েছেন, গোটা রাস্তাতেই সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে। বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাস্তা। অসংখ্য গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। তার মাঝখান দিয়েই কোনওক্রমে এগিয়ে যান তিনি।
হেনসি সোনির মতো অনেকেই এই বর্ষায় গুরুগ্রামের ছবি তুলে ধরেছেন। রাস্তা আছে, গাড়ি আছে, শহর আছে, কিন্তু চলার পথ নেই। ভিডিওতে নিজের ক্ষোভ ও অসহায়তার কথা বলতে গিয়ে হেনসি বলেন, ‘বাড়ি ফেরাটাই একটা যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে’। “প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে, আপনি অফিসে আছেন, বাড়ি ফেরাটাই একটা যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ যতদূর চোখ যায় শুধু যানজট।”
গুরুগ্রামের কর্পোরেট পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, শহরে কর্পোরেট দুনিয়ার জন্য সবকিছু থাকলেও রাস্তাটাই তেমন নয়। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, শেষ পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা পর বাড়ি পৌঁছতে পেরেছেন। অথচ তাঁকে মাত্র ৮ কিলোমিটার।
৮ কিলোমিটার পথ, আড়াই ঘণ্টার যন্ত্রণা
হেনসির এই ভিডিও দেখে অনেকেই আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন, এই শহরে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে কী হবে ? কী অবস্থা অ্যাম্বুল্যান্সগুলোর ?
হেনসির ভিডিও সামনে আসতেই বহু মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন কমেন্টে। একজন লিখেছেন, “আমি অ্যাম্বুল্যান্স ও অন্যান্য জরুরি অবস্থা নিয়ে চিন্তিত।” আরেকজনের মন্তব্য, “আমি হেঁটে গেলে আরও দ্রুত পৌঁছাব।” অর্থাৎ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, গাড়িতে বসে থাকার চেয়ে বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে যাওয়াকেই দ্রুততর পথ বলে মনে হয়েছে অনেকের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ব্যক্তি বর্ষার সময়ে গুরুগ্রামে অটো ভাড়া সুযোগ বুঝে বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন।
JU Chaos : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তাণ্ডব, অবশেষে রেজিস্ট্রারের ঘরে পুলিশ
