সন্দীপ সরকার, পার্থপ্রতিম ঘোষ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : পৈলানের একটি শপিং মলের বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয়ের ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা সংক্রান্ত সরঞ্জাম। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের গোডাউন থেকে উদ্ধার হয়েছে সেবাশ্রয় শিবিরের কাঁড়ি কাঁড়ি মজুত জিনিস। ‘সব মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দিয়েছে রোগীদের, এই চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না’। নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘যিনি বিধানসভার সদস্য নন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই, তাঁকে এইভাবে ইঙ্গিত করে আক্রমণ রীতিবিরোধী’, পাল্টা প্রতিবাদী সুর শোনা গেল কুণাল ঘোষের গলায়।
পড়ে আছে পেটি পেটি ওষুধ, যার অনেকগুলিই মেয়াদ উত্তীর্ণ। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ। অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, প্রেশার মাপার যন্ত্র থেকে স্ট্রেচার, হুইল চেয়ারের মতো বহু সরঞ্জাম। অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানের একটি শপিং মলের বেসমেন্টে এভাবেই মজুত করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয়ের কাঁড়ি কাঁড়ি জিনিস। এই গোডাউনের কথাই শনিবার বিধানসভায় উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। গোডাউনে অভিযান চালিয়ে সেবাশ্রয়ের ছবি দেওয়া প্রচুর ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে বিষ্ণুপুর থানা।
গত দু’মাসে বারবার শিরোনামে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় প্রকল্পের ওষুধ। একটি দুটি ওষুধ নয়, একেবারে ট্রাক ট্রাক মেডিসিন। কোথাও মাটির নীচে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। কোথাও ফেলে দেওয়া হয়েছে জলে। আবার চেষ্টা হয়েছে পুড়িয়ে দেওয়ারও। সপ্তাহ দু’য়েক আগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার হিঞ্চেবেড়িয়ায়, মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ শামিম আহমেদ মোল্লার এক আত্মীয়ের ফার্মহাউসে অভিযান চালায় পুলিশ। উদ্ধার হয় ওষুধের পাহাড়। সব মিলিয়ে ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে চড়ছে রাজনীতির পারদ।
সেবাশ্রয় নিয়ে দুর্নীতি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘এই চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। আগে তো সবাইকে তুলব। সব আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন সিজ হয়েছে। সব এক্স-রে মেশিন সিজ হয়েছে। দিলীপ মণ্ডল, তাঁর গোডাউন থেকে এই সকল ‘সেবাশ্রয়’-এর…ওষুধ সিজ হয়েছে, যেটা ২১ সালের ওষুধ। মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ দিয়েছে রোগীদের।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘আমরা মেয়াদ উত্তীর্ণ সব ওষুধ সিজ করেছি এবং এই খাতে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, ডায়মন্ড হারবার এবং নন্দীগ্রামে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, সরকারি যে চিকিৎসকদের ডিউটিতে লাগানো হয়েছে। সেগুলো আমরা করেছি।’
