পূর্ণেন্দু সিংহ, বাঁকুড়া: স্বামীর মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধের কাজ শেষ দিনে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হলো বৃদ্ধার। মৃতার নাম মালতি ছাতাইত (৮০) । বাঁকুড়া সদর থানার নড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবরামপুরের ঘটনা।
মৃতার পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবারই ওই বৃদ্ধার স্বামী গোপাল ছাতাইতের শ্রাদ্ধের কাজ শেষ হয়েছে। আত্মীয়দের কেউ কেউ এখনও বাড়িতে রয়েছেন। তারই মধ্যে অন্যান্য দিনের মতো মাটির বাড়ির বারান্দায় শুয়েছিলেন বৃদ্ধা মালতী ছাতাইত। শনিবার ভোর ৪:১৫ নাগাদ মাটির দেওয়াল ভেঙ্গে চাপা পড়ে যান তিনি। বিষয়টি বুঝতে পেরেই দেওয়ালের মাটি সরিয়ে যখন তাঁকে উদ্ধার করা হয় তখন সব শেষ!
বৃদ্ধার বৌমারা জানিয়েছেন, সরকারী আবাস যোজনা প্রকল্পে তাদের নাম ছিল, কিন্তু তারই মধ্যে ছেলে স্কুল শিক্ষকের চাকরী পাওয়ায় ওই তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ যায়। যদি আগে এই বাড়ি পাওয়া যেতো তাহলে আজকের এই দিন দেখতে হতোনা বলে তারা জানান।
ঘটনাস্থল থেকে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধারকরে ময়না তদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্তের নিয়ে নিয়ে যায়। এলাকায় শোকের ছায়া।
এই ঘটনা কিন্তু এ রাজ্যে নতুন বা প্রথম নয়। অতীতে দেওয়াল ভেঙে রাজ্যে একাধিক মৃত্যু হয়েছে। মাসখানেক আগেই বীরভূমের এই বাড়ি ভেঙেই চাপা পড়ে আরেক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছিল। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বীরভূমের লাভপুরে মাটির বাড়ি ভেঙে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার। মৃতের নাম মালতি চৌধুরী, বয়স ৬৪ বছর। ঘটনাটি ঘটেছে লাভপুর থানার সামনে।
এই মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই আবাসন প্রকল্পে বাড়ি না পাওয়ার ক্ষোভ উগরে দিল মৃতের পরিবার। পরিবারের অভিযোগ আবাস যোজনায় (Awas Yojana) বারবার আবেদন করেও মেলেনি পাকা বাড়ি। পেলে হয়তো এই ভাবে মালতি দেবীর মৃত্যু হত না।
লাভপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতর বাসিন্দা মালতি চৌধুরী মাটির বাড়িতেই বসবাস করতেন। পরিবারের অভিযোগ, সরকারি আবাসনের জন্য বারবার আবেদন করা হলেও বাড়ি না মেলায় অগ্যতা বাধ্য হয়েই ভাঙাচোরা বাড়িতেই দিন কাটাতে হচ্ছিল তাঁকে। তবে গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে আলগা হয়ে যায় বাড়ির দেওয়াল। বুধবার সকালে মালতি দেবী বাড়ির ভিতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছিলেন। আর সেই বাড়ি পরিষ্কারের কাজ করার সময়ই ঘটে যায় বিপত্তি। সেই সময় আচমকাই মাটির বাড়িটি ভেঙে পড়ে। দেওয়ালের নীচে চাপা পড়ে যান মালতি দেবী।
টের পরেই মালতি দেবীর পরিবার এবং তাঁর প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মাটি সরিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। নিয়ে যাওয়া হয় লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে গিয়েই দুঃসংবাদ পান তাঁরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
